
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় রাস্তার পাশে কৃষিজমি থেকে মাহমুদ আলী (৬৮) নামের এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করছেন।
শনিবার (২ আগস্ট) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের আটগ্রাম এলাকার মাদাননগর-বড়বন্দ রাস্তার পাশে ধানক্ষেতে পড়ে থাকা মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মাহমুদ আলী কানাইঘাট উপজেলার ১নং লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের বড়চাতল গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। স্থানীয়দের মতে, তিনি একজন ধর্মভীরু মানুষ ছিলেন এবং জীবনের একটি পর্যায়ে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে তিনি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিলেন। তাঁর তিন ছেলে প্রবাসে রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে মাদাননগর-বড়বন্দ সড়কের পাশে ধানক্ষেতে অচেতন অবস্থায় এক বৃদ্ধকে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয় এবং দুপুরে জকিগঞ্জ থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্নার নেতৃত্বে পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মরদেহের পাশে পড়ে ছিল একটি টর্চ লাইট, জোড়া জুতা, কিছু খরচপাতি এবং একটি সার্জিক্যাল হ্যান্ড গ্লাভস। আশপাশের ধানগাছও ছিল অক্ষত ও পরিপাটি। এসব উপাদানই সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে এক পাশে মরদেহ আর বিপরীত পাশে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পাওয়া এবং হ্যান্ড গ্লাভস পড়ে থাকা ঘটনাটিকে আরও বেশি রহস্যজনক করে তুলেছে।
প্রথমে বৃদ্ধের পরিচয় না পাওয়া গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে তার ছেলে রেহিম আলী ছবি দেখে ঘটনাস্থলে এসে লাশ শনাক্ত করেন।
রেহিম আলী জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে লোকজনকে তাবিজ-কবচ করে দিতেন। এ কারণে অপরিচিত অনেক মানুষ তাদের বাড়িতে যেত। শুক্রবার জুমার নামাজের পর একজন অপরিচিত যুবক তাদের বাড়িতে এসে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পর সন্ধ্যার দিকে তার বাবাকে সঙ্গে করে কোথাও নিয়ে যায়। এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি।
বড়চাতল এলাকার সাবেক মেম্বার মাহতাব উদ্দিন বলেন, “মাহমুদ আলী একজন সজ্জন মানুষ ছিলেন। তাঁর এমন নির্মম ও রহস্যজনক মৃত্যু এলাকাবাসীর মনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।”
জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”