
দশ দিন নিখোঁজ থাকার পর ভারত থেকে ফিরে এলো আব্দুল মালিকের (৫৫) নিথর দেহ। আর সেই সাথে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের মৌলভীচক গ্রামের মিরাসী বাড়িতে নেমে এলো শোকের ছায়া।
মৃত ইবরাহিম আলীর চতুর্থ সন্তান আব্দুল মালিক ছিলেন সহজ-সরল ও সদাহাস্য এক মানুষ। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পর সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজ চালিয়েও পরিবারের সদস্যরা কোনো খোঁজ পাননি। একপর্যায়ে তাঁদের আশা প্রায় নিভে যেতে বসে।
ঠিক সেই সময় ভারতের আসাম রাজ্যের একটি হাসপাতালে থাকা অজ্ঞাত পরিচয়ের এক মরদেহের খবর আসে। খবর পেয়ে পরিবার নতুন করে আশা ও শঙ্কায় কেঁপে ওঠে। পরিচয় শনাক্তের পর নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি নিখোঁজ আব্দুল মালিকেরই মরদেহ।
ভারতের করিমগঞ্জ জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বিএসএফ ও বাংলাদেশের বিজিবি এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের মাধ্যমে শনিবার (১৯ জুলাই) রাতে মরদেহটি দেশে আনা হয়। প্রিয় মানুষের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনরা। আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে মৌলভীচক গ্রামের আকাশ-বাতাস।
প্রতিবেশীরা বলছেন, আব্দুল মালিক ছিলেন অত্যন্ত নরম স্বভাবের ও হাস্যোজ্জ্বল মানুষ। এমন করুণ বিদায় তাঁরা কল্পনাও করেননি।
শনিবার রাত ১টায় স্থানীয় হাজীগঞ্জ শাহী ঈদগাহ মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর মামা মাওলানা হোসাইন আহমদ জানাজার ইমামতি করেন। গভীর রাতেও জানাজায় অংশ নিতে শত শত মানুষ উপস্থিত হন। জানাজা শেষে তাকে কবরস্থানে দাফন করা হয়।