
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব আসনে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব ও সক্রিয়তা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করা যায়, সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসন তার মধ্যে অন্যতম। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে ইতোমধ্যে কয়েকটি ইসলামী দল তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি, মাঠপর্যায়ের তৎপরতা ও সম্ভাব্য জোট-সমীকরণ নিয়েও সাধারণ মানুষদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বর্তমানে এ আসনে যাদের নাম দলীয়ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আনওয়ার হোসেন খান, খেলাফত মজলিসের মুফতী আবুল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতী রেজাউল করিম আবরার,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী রেজাউল করিম জালালী।
মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মাওলানা আনওয়ার হোসেন খান ইতোমধ্যে মাঠে বেশ সক্রিয়ভাবে রয়েছেন। অন্যদিকে, মুফতী রেজাউল করিম আবরার ও রেজাউল করিম জালালী এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে দেখা যায় নি যদিও তাদের প্রার্থিতা দলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে দুটি সমীকরণ ঘিরে আলোচনা হচ্ছে, দলটি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে থাকতে পারে নতুবা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে পারে।
খেলাফত মজলিসের নেতা-কর্মীরাও ধীরে ধীরে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিসের মধ্যে জোটের গুঞ্জন রয়েছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা জোটের ঘোষণা করা হয়নি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অবস্থানও আপাতত স্পষ্ট নয়; দলটি এককভাবে নির্বাচন করবে নাকি অন্য কোনো জোটে যুক্ত হবে, তা সময়ের ওপর নির্ভর করছে।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, তত স্পষ্ট হবে কারা মাঠে সক্রিয় থাকছেন এবং কোন সমীকরণ গড়ে উঠছে। আপাতত ইসলামপন্থী দলগুলোর প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে সিলেট-৫ আসনের রাজনৈতিক পরিবেশ ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।