
জকিগঞ্জ টিভি ডেস্ক:
অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনুস চলতি বছরের ৬ জুন আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে জানান। সম্প্রতি লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের পর নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হতে পারে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সময় যত পেরোচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম গোছাতে শুরু করেছে। দেশের সংসদীয় আসন ২৩৩, সিলেট ৫ আসনেও ধীরে ধীরে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ভোটার ও দলীয় কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি:
সিলেট ৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে আলোচনায় রয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির ১ম সহ সভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী পাপলু, বিএনপি নেতা প্রয়াত আবুল হারিস চৌধুরীর কন্যা সামিরা তানজিন চৌধুরী, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মাহবুবুল হক চৌধুরী(ভিপি মাহবুব), সাবেক জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিএনপির আহবায়ক জাকির হোসেন।
ইসলামী দলগুলোর প্রস্তুতি :
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক হেভিওয়েট প্রার্থী হিসাবে এ আসনে আলোচনায় রয়েছেন।
সিলেট ৫ আসনে ইতিমধ্যে দলীয় প্রার্থী হিসেবে হাফিজ মাওলানা আনওয়ার হোসেন খানের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী।
খেলাফত মজলিস থেকে জকিগঞ্জ বাজার জামে মসজিদের ইমাম মুফতি আবুল হাসান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষে মুফতি রেজাউল করিম আবরারের নাম শোনা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, বিগত ২১ জুন, জকিগঞ্জে হাত পাখার প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ফাহিম আল চৌধুরীর প্রার্থীতা নিয়েও গুঞ্জন চলছে; তবে এ বিষয়ে তিনি নিজে এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেননি।
আগামী নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতের দলীয় প্রার্থীরা নিজস্ব প্রতীকে আলাদাভাবে নির্বাচন করতে পারেন। আবার জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে এ আসনে দলীয় প্রতীকের প্রার্থী পরিবর্তনও হতে পারে। জামায়াতে ইসলাম সহ দেশের বিভিন্ন ইসলামী ইসলামী দল জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াত কিংবা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটের একক প্রার্থী থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসলামী দলসমূহের জোটে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থাকলে এ আসনে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ইসলামী জোট থেকে নির্বাচন করতে পারেন। তবে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিএনপির সাথে জোটে থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিএনপি জোটে জমিয়ত থাকলে জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে হয়তো এ আসন ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি। উল্লেখ্য, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ২০১৮ সালের নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচন আরও ঘনিয়ে এলে নতুন মুখ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নাম লেখানোর সম্ভাবনাও রয়েছে বলে ধারণা সাধারণ জনগণের।
নানা সমীকরণ, জোটের হিসাব-নিকাশ রয়েছে সিলেট-৫ আসনকে ঘিরে। নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও জোটগত অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন ভোটাররা।
