
সিলেট থেকে কোম্পানিগঞ্জ এর দূরত্ব মাত্র ২৪ কিলোমিটার আর ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরের দূরত্ব ৪১কিলোমিটার। গত ৮ নভেম্বর চালু হয়েছে সিলেট আম্বরখানা থেকে কোম্পানিগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ পর্যন্ত বিআরটিসি বাস সার্ভিস। অথচ বাংলাদেশের জেলা শহর থেকে সবচেয়ে দূরত্বের (৯১ কি.মি) উপজেলা শহর হলো জকিগঞ্জ উপজেলা। সেই উপজেলার জনগণ যুগের পর যুগ বিভিন্ন সময় বিআরটিসি বাস চালু করার দাবী জানালেও সেটি পায়নি সফলতা।
অথচ জকিগঞ্জের সাথে একসময়ে সারা ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিলো বৃটিশ আমলে। তখন জকিগঞ্জের সড়ক, নৌপথ ও রেল পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিলো এতো উন্নত যে কেউ ইচ্ছা করলে কলকাতা বা দিল্লিতে গিয়ে চাকুরী, ব্যবসা বানিজ্য, চিকিৎসা ও উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে পারতেন। কিন্তু ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জকিগঞ্জ উপজেলা, হারিয়েছে রেল যোগাযোগ সহ বিভিন্ন জায়গার সাথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এখন সকাল-সন্ধ্যা ঘরে বসলেই রেলের ঝক-ঝকাঝক শব্দ কানে ভাসে, যা এককালে আমাদের ছিলো। সেকালে এই শব্দ জানিয়ে দিতো প্রিয়জনের ফিরে আসার।
জকিগঞ্জ কি সম্ভব না বিআরটিসি চালু করার? আমি নিশ্চিত, উপর মহলে যদি নেতৃস্থানীয় কেউ দেশ ভাগের এই সেক্রিফাইজের গল্প শোনাতে পারেন, তা হলে বিআরটিসি বাস কেনো রেল যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দিয়ে হয়তো জকিগঞ্জ বাসীকে উপহার দিয়ে চমকে দেয়া হবে।
ঘনঘন সড়ক দুর্ঘটনা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত দিচ্ছে লাশ হওয়ার হাতছানি, অদক্ষ ড্রাইভার আর অপরিকল্পিত বাস চলাচলের কারণে। তাই জকিগঞ্জ উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে আবেদন জানাই জকিগঞ্জ টু সিলেট বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু করে অবহেলিত জকিগঞ্জবাসীকে কৃতজ্ঞতায় বাধিত করুন।
আমরা এই ন্যায্য দাবী আপনি আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে বলে বিশ্বাস করি। আমাদের বিশ্বাস যেন টিকিয়ে রাখা হয়।
লেখক- ডিরেক্টর, জকিগঞ্জ টিভি।