
জকিগঞ্জের প্রবাসী উলামায়ে কেরামের ঐক্যবদ্ধ সামাজিক সংগঠন ‘জনকল্যাণ সোসাইটি জকিগঞ্জ’ এর অর্থায়নে বন্যা দূর্গত আবাসিক মাদরাসা সমূহে চাল বিতরণ কর্মসূচী সম্পন্ন হয়েছে।
০৭ সেপ্টেম্বর বুধবার উপজেলার ০৪টি স্পটে মোট ২৫ টি মাদরাসায় ২৫০ বস্তা চাল হস্তান্তর করা হয়। সকাল ১১টায় শাহবাগ জামিয়া মাদানিয়ায়, ১২.৩০ মিনিটে হাড়ীকান্দি মাদরাসা, ০১.২০ মিনিটে লামারগ্রাম মাদরাসা ও ২.৩০ মিনিটে মুনশীবাজার মাদরাসায় চাল বিতরণ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
সোসাইটির সহ-সভাপতি মাওলানা মুখলিসুর রহমান ও সহ-সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিনের মনিটরিং এর মাধ্যমে সার্বিক প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন সিলেট জেলা জমিয়তের প্রচার সম্পাদক মাওলানা রায়হান উদ্দীন।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, সিলেট জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুল মালিক কাসিমি, জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মুফতি আবুল হাসান, লামারগ্রাম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবদুল গাফফার রায়পুরী, হাড়ীকান্দি মাদরাসার নাইবে মুহতামিম মাওলানা হাফিজ সিদ্দিকুর রহমান প্রমূখ।
বিতরণ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকারে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে দেশে যথেষ্ট অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে এটা সত্য। তবে এখনো মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত। আজও মানুষের জান ও মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। সড়কগুলোর ভঙুর অবস্থা। অথচ কোনো তদারকি নেই। সড়কপথে শৃঙ্খলা না থাকায় অসংখ্য বনিআদমকে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে। নাগরিকদের অধিকার রক্ষা এবং সড়কপথ ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, জমিয়ত আল কুরআনের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। হাজারো বাধাঁ উপেক্ষা করে সামর্থ্য অনুযায়ী আর্ত-মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। বন্যা, দেশের যে কোনো প্রান্তে সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ধর্ম-বর্ণ-দল নির্বিশেষে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আমরা আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।”
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যায় যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এত বেশি যে, সেই তুলনায় আমাদের অনুদান একেবারেই সামান্য। যখন কোথাও প্রাকৃতিক দুর্যোগ- বন্যা, সাইক্লোন, টর্নেডো আসে তখন ব্যাপক মানুষ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। রাষ্ট্র চাইলে সঠিকভাবে সুন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে উপকৃত করতে পারে। অত্যন্ত দুঃখজনক হলো- রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বরাদ্দ আসে কিন্তু এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পরিপূর্ণভাবে পৌঁছে না। সামান্য পৌঁছে আর অর্ধেক আগেই লুট হয়ে যায়।
যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত সময়ে-অসময়ে পানি ছেড়ে দিয়ে আমাদেরকে বিপদ গ্রস্থ করে। সরকার চাইলে এর বিরুদ্ধে একটা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে। ভারত যখন পানি ছাড়বে তখন যেন ভাটি অঞ্চলে পানি না আসে আমরা সরকারের নিকট সেই দাবী জানাচ্ছি।
জনকল্যাণ সোসাইটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রুহুর অমিন বলেছেন, বন্যার শুরু থেকেই আমাদের সোসাইটির নেতৃবৃন্দ ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এখানে এসেছেন, যুব জমিয়ত ও ছাত্র জমিয়তের নেতাকর্মীরাও ত্রাণ বিতরণ করেছেন, সেই ধারাবাহিকতায় আজকে আমরাও এখানে এসেছি।
তিনি বলেন, যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে তুলনায় আমাদের সহযোগিতা একেবারেই অল্প। সহযোগিতা আরো বেশি প্রয়োজন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, রাজনৈতিক দল এবং দেশি-বিদেশি সেবা সংগঠন সকলেরই এদিকে দৃষ্টি পড়েছে এবং আরো বেশি দৃষ্টি পড়া দরকর। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর মুখে যেন হাসি ফুটে আল্লাহ পাক সেই ব্যবস্থা করে দেন।
দিনব্যাপী প্রোগ্রামে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা জমিয়তের উপদেষ্ঠা মাওলানা আব্দুল মুসাব্বির আইয়রী, উপজেলা জমিয়তের সভাপতি মাওলানা জাওয়াদুর রহমান, সহ-সভাপতি মাওলানা বাহার উদ্দীন,মাওলানা ফারুক আহমদ, মাওলানা জামিল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুফতি মাহমুদ হুসাইন, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাওলানা ফয়সল আহমদ প্রমূখ।
বিকাল ০৩ ঘটিকায় মুনশীবাজার মাদরাসায় সমাপনী অনুষ্ঠানে আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন মুনশীবাজার মাদরাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস আল্লামা মুকাদ্দাস আলী।