আহমদ হোসাইন:: জকিগঞ্জের মানিকপুর ইউনিয়নাধীন মাতারগ্রামের এক জরাজীর্ণ ঘরে সিরাজ মিয়ার (৬১) বসবাস। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে ছোট মেয়ে আর নাতনিকে নিয়েই তার পরিবার। জীবিকার তাগিদে রোগাক্রান্ত শরীর নিয়েও বছর তিনেক আগে স্থানীয় বাজারে বস্তা টেনেছেন। কিন্তু করোনার প্রকোপ আর শারীরিক অবনতিতে একসময় আর পেরে ওঠা হয়নি। অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটাতে থাকেন ঘরে। এক বেলার আহারের জন্য মানুষের হাতের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়েছে তাকে দিনের পর দিন।

সম্প্রতি সিরাজ মিয়ার অসহায় জীবনযাপন নিয়ে জকিগঞ্জ টিভির তৈরীকৃত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমী আক্তার চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজসহ প্রায় ৩০ কেজির নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারসামগ্রী নিয়ে সিরাজ মিয়ার বাড়িতে হাজির হন। এসময় ঘর নির্মাণ ও ভাতা প্রদানসহ সরকারী তরফ থেকে সহযোগিতার ব্যাপারে আশ্বাস দেন তিনি।
পরে তার অবগতিক্রমে ঘরটি নির্মাণের দায়িত্ব নেয় মুসলিম হ্যান্ডস ইন্টারন্যাশনাল। বুধবার (১৬ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমী আক্তার, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আতাউর রহমান, মুসলিম হ্যান্ডসের স্পেশাল প্রোগ্রাম সুপারভাইজর জামিল আহমদ, সিলেট পূবর্ জেলা তালামীযের সহ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি বাবর হোসেন চৌধুরী, আহমদ হোসাইন আইমান প্রমূখ।
প্রোগ্রাম সুপারভাইজর জামিল আহমদ জানান, চুলা, বারান্দা, শৌচাগার ছাড়াও সিরাজ মিয়ার ঘরটি হবে তিন কক্ষবিশিষ্ট। আশা করছি মাস খানেকের মধ্যেই কাজ পুরোপুরি শেষ হবে।
ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত সিরাজ মিয়া বলেন, জীবনের শেষ সময়ে এসে এই সহযোগিতা পেয়ে বড় খুশি হলাম। অন্তত শান্তিতে মরতে পারবো। ঔষধপত্র থেকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে যারা সহযোগিতা করেছেন সবার জন্য দোয়া করা ছাড়া আমার দেয়ার কিছু নেই।