
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের হাতিডহর-নগরকান্দি সড়কটি বহুদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। তবে সম্প্রতি সড়কটির একটি অংশ সংস্কারের জন্য ৪৭ লাখ ২১ হাজার ৭৮৭ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সড়কের সেই অংশে, যেখানে ইতোমধ্যেই চলাচল তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক। বিপরীতে হাতিডহর, নগরকান্দি, টাকারবন্দ ও মির্জারচক গ্রামের মধ্যে যে কাঁচা অংশটি সবচেয়ে কর্দমাক্ত ও বিপজ্জনক, সেটি এখনো অবহেলিত রয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী মো. আব্দুল হাসিব মানিক বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে কাঁচা অংশটি পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছি। অথচ হঠাৎ দেখা যাচ্ছে, বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ইতোমধ্যেই পাকা অংশে এটা তেল দেওয়া মাথায় আবার তেল দেওয়ার মতো কাজ!”
এলাকাবাসী জানায়, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুলগামী শিশু, বাজারগামী নারী-পুরুষ, রোগীবাহী যানবাহন ও কৃষিজ পণ্য পরিবহন হয়। বর্ষাকালে কর্দমাক্ত রাস্তায় চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে দুর্ঘটনা ও যানবাহন বিকল হওয়ার ঘটনাও ঘটে প্রায়ই।
একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার বাচ্চারা স্কুলে যেতে গিয়ে কাদায় পড়ে যায়, বইপত্র নষ্ট হয়। অথচ কোনো জনপ্রতিনিধি বা কর্মকর্তা এসে দেখে না।”
একজন কৃষক বলেন, “ধান রোপণ বা কাটার সময় এই রাস্তা দিয়ে কিছু বহন করাই যায় না। ফলে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয় খরচ বাড়ে, লাভ কমে।”
কসকনকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার মইন বলেন, “এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ অবস্থায় আছে। আমি বিষয়টি একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখন আংশিক বরাদ্দ এসেছে, আশা করি ভবিষ্যতে কাঁচা অংশেরও সংস্কার হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, উন্নয়ন শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে দেখতে চান তারা। তাদের প্রশ্ন “আর কত কষ্ট হলে এই সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে?”