
আবীর আল নাহিয়ান
সবুজ শ্যামল, শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশে প্রাচীন কালের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে দাঁড়িয়ে আছে চমৎকার স্থাপত্যশৈলিতে তৈরি দেওয়ান সাজিদ রাজার বাড়ি। স্থানীয় লোকের কাছে এটি বড়বাড়ি নামে পরিচিত। সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রামে অবস্থিত দেওয়ান সাজিদ রাজার বাড়িটি জকিগঞ্জের অন্যতম দর্শনীয় স্থান। ১৮ শতকের দিকে দেওয়ান এহসান রাজা চৌধুরীর পুত্র দেওয়ান সাজিদ রাজা চৌধুরী বাড়িটি নির্মাণ করেন। মূল ভবনের স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত নান্দনিক। ছাদ, দরজা ও কাঠামোর কারুকাজে জমিদার আমলের শৌখিনতার ছাপ স্পষ্ট।
বাড়িটিতে আরও রয়েছে তেরোচালা ঘর। লোকমুখে শোনা যায়, ঘরটি নির্মাণের জন্য কলকাতা থেকে দক্ষ মিস্ত্রি আনা হয়েছিল। কাঠ ও টিনের সমন্বয়ে তৈরি এই ঘরের কারুকাজ শিল্পসম্মত, যা জমিদারি ঐতিহ্যের প্রতিফলন। জনশ্রুতি রয়েছে, তেরোচালা ঘরটি তৎকালীন সময়ে বৈঠকখানা হিসাবে ব্যবহৃত হতো এবং মরমী কবি হাসান রাজাও এখানে আসতেন। উল্লেখ্য, প্রখ্যাত মরমী কবি হাসন রাজা ও দেওয়ান সাজিদ রাজা আপন ভায়রা ভাই ছিলেন। তাঁদের শ্বশুর ছিলেন ভারতের করিমগঞ্জ জেলার , সদর থানার, কুশিয়ারকুল পরগণার, কর্ণমধু চৌধুরী বাড়ী নিবাসী গোলাম ইউসুফ চৌধুরী।
বাড়ির সামনে রয়েছে একটি সুবিশাল দিঘী, যা একসময় জমিদার পরিবারের পানীয়জল ও অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে এটি এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলাধার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ বাড়ির অন্যতম স্থাপনা বড়বাড়ি জামে মসজিদ। দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য ও অসাধারণ স্থাপত্যশৈলিতে তৈরি এ মসজিদ নজর কাড়ে যে কারো! এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন সকালে শিশুরা মক্তবে এসে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত শেখে। মসজিদের কারুকাজ এতটাই চমৎকার যে আধুনিক নকশাকেও হার মানায়। মসজিদের একপাশে মিনার রয়েছে৷ যখন মাইকের প্রচলন ছিলো না তখন এই মিনারে দাঁড়িয়ে আজান দেয়া হতো।
উল্লেখ্য, প্রাচীন স্থাপত্যশৈলি অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য মূল রাজপ্রাসাদটি ২০২৩ সালে সংস্কার করা হয়েছে।
১৮ শতকের শৈল্পিক নির্মাণশৈলীতে গড়ে ওঠা এই ঐতিহাসিক স্থাপনা এখনও তার অতীতের ঐশ্বর্য ও সংস্কৃতির দীপ্তি বহন করে চলছে। যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে! কোলাহলমুক্ত, স্নিগ্ধ পরিবেশে অবসর সময় কাটাতে এখানে ঘুরতে আসেন দর্শনার্থীরা!
যেভাবে যাবেন-সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে সিলেট-জকিগঞ্জ রোডের বাসে চড়ে আটগ্রাম স্টেশনে নামতে হবে। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গাছ আর খোলা প্রাকৃতিক দৃশ্য মনোমুগ্ধকর এক ভ্রমণের অনুভূতি দেয়। আটগ্রাম স্টেশন থেকে স্থানীয় অটোরিকশায় কয়েক মিনিটের পথ পেরোলেই পৌঁছে যাবেন ঐতিহ্যবাহী দেওয়ান সাজিদ রাজার বাড়িতে।
লেখক: শিক্ষার্থী, এমসি কলেজ, সিলেট