
জকিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাফছা মজুমদার মহিলা ডিগ্রি কলেজ, সাজ্জাদ মজুমদার বিদ্যানিকেতন এবং প্রতিভা নিবাসের মতো আবাসিক প্রতিষ্ঠানের সামনে অস্ত্র হাতে মহড়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ছবিতে দেখা যায় দা হাতে একজন যুবক সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, আর তার পেছনে আরও ১২ জন যুবক সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করছেন। কেন ও কী উদ্দেশ্যে তারা এই মহড়া দিয়েছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে এভাবে বহিরাগতদের অস্ত্র হাতে উপস্থিতি জকিগঞ্জের শান্তিপ্রিয় মানুষের মধ্যে হতবাক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, “মহিলা কলেজ ও আবাসিক ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা কীভাবে প্রবেশ করল এবং নিরাপত্তার অভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা আমাদের হতাশ করেছে।”
সাজ্জাদ মজুমদার বিদ্যানিকেতনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অসীম ভৌমিক বলেন, “প্রতিষ্ঠান ছুটির পর কিংবা বন্ধের দিনে হয়তো ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন ভীতিকর ভিডিও ধারণ গুরুতর অপরাধ, যা আমরা মেনে নিতে পারি না। দোষীদের অবশ্যই শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হাফছা মজুমদার মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খালেদ মহিউদ্দিন আজাদ বলেন, “শৃঙ্খলা ও মর্যাদা বিনষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। আমাদের প্রতিষ্ঠান শিক্ষার মর্যাদা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতীক। কিছু ব্যক্তি আমাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ভীতিকর ছবি প্রচার করেছে, যা শিক্ষাঙ্গনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। তারা যেই হোক, আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে রবিবার জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।