
গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা ও সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন সৌরভের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গভীর শোক, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জকিগঞ্জের গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব।
০৮ আগষ্ট, শুক্রবার বর্বরোচিত ঘটনাগুলোকে ‘সাংবাদিকতার জন্য ভয়াবহ হুমকি’ আখ্যা দিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করে জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের সভাপতি জুবায়ের আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব লায়েক এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে জনগণের পক্ষে সত্য তুলে ধরেন। অথচ আজ সেই পেশার মানুষদের জীবনই নিরাপদ নয়। গাজীপুরের এই ঘটনা আমাদের বিস্মিত, শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ করেছে।”
বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন, “এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড পেশাগত স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এটা স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কখনোই মেনে নেওয়া যায় না।”
জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব এ ঘটনায় সরকারের প্রতি তিন দফা দাবি জানিয়েছে:
১. সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং তাঁর পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
২. দেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ আইন প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
৩. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সকল সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনার বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুকিত এক বিবৃতিতে বলেন, “সাংবাদিক হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করছি।”
উল্লেখ্য, ৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিন গাজীপুরে দুর্বৃত্তদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন। একইদিনে দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আনোয়ার হোসেন সৌরভ সেখানে সংবাদ সংগ্রহকালে সন্ত্রাসীদের মারধরের শিকার হন।