জকিগঞ্জে সংবাদ ও সাংবাদিকতা: কিছু কথা

Spread the love

আবীর আল নাহিয়ান :

দেশের সীমান্তবর্তী জনপদ জকিগঞ্জ। ১১১.০৭ বর্গমাইলের এই উপজেলায় প্রতিদিনই ঘটে চলে নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। একসময় এসব তথ্য ঢাকা পড়ে যেত আলোচনার বাইরের কোনো অন্ধকার কোণে কিংবা প্রকাশে বিলম্ব হতে। সময় বদলেছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গেছে খবরের ভাষা ও গতি। এখন অনলাইন সংবাদপোর্টাল, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবের মাধ্যমে ঘরে বসেই জকিগঞ্জের খবর পৌঁছে যাচ্ছে সারা দেশে, এমনকি দেশের বাইরেও।

এই পরিবর্তনের পেছনে আছেন কিছু নিবেদিতপ্রাণ সংবাদকর্মী। যাঁরা দায়িত্বশীল, তথ্য যাচাইয়ে সচেতন এবং জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দেন। তাঁরা কেবল সংবাদ পরিবেশন করেন না, বরং নিজের জায়গা থেকে একটি এলাকার চিত্র তুলে ধরেন বৃহত্তর সমাজের সামনে।

তবে সবকিছুর পরেও এই অঙ্গনের বাস্তবতা খুব সহজ নয়।
জকিগঞ্জের অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম এখনো কোনো কর্পোরেট পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই চলছে। অনেক সময় নিজেদের পকেটের টাকায় ডোমেইন-হোস্টিং, ক্যামেরা, মোবাইল ডেটা বা অনুষ্ঠান কাভার করার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন এই তরুণরাই।

তাঁদের অনেকেই সাংবাদিকতা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন না। অন্য পেশায় থেকেও তাঁরা স্থানীয় সাংবাদিকতার ভার কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তাঁদের চোখে সংবাদ কেবল পেশা নয়, এটি জন্মমাটির প্রতি দায়বদ্ধতার নিদর্শন।

তাই, অযৌক্তিক কোনো কারণে তাদেরকে আক্রমণ করার আগে একবার ভেবে দেখা উচিত এই খবরটি কেউ না লিখলে আমরা জানতামই না। এই কাজের পেছনে আছে নিষ্ঠা, সময়, শ্রম ও আত্মত্যাগ।

জকিগঞ্জের এই সংবাদকর্মীদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা থাকা উচিত। অন্তত স্বীকৃতির কিছু শব্দই তাঁদের পরবর্তী পথচলায় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।

পুনশ্চ: যারা যাচাই না করে “যা পাই, তাই দেখাই” এমন কনটেন্ট ছড়িয়ে দেয়, আবোল-তাবোল তথ্য-ভিডিওকে সংবাদ বলে চালায় কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়ায়-তারা কোনোভাবেই সাংবাদিক নয়। সংবাদ মানে দায়িত্ব, তথ্য মানে দায়িত্বশীলতা। ফেসবুক লাইভে চেঁচিয়ে কিছু বললেই কেউ সাংবাদিক হয়ে যায় না। এ ব্যাপারে পাঠক, দর্শক এবং সাধারণ মানুষের সচেতন হওয়া জরুরি।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *