
ইমরান হোসেন শাহরিয়ার
জকিগঞ্জের সাংবাদিকতা নিয়ে অনেকেই নানাভাবে কথা বলেন। সংবাদ পরিবেশনের নৈতিকতা, দায়বদ্ধতা এবং দায়-দায়িত্বের কথা বলাই স্বাভাবিক। কিন্তু একটি বিষয়ও ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না—সংবাদপত্র বা সংবাদমাধ্যম চালানো শুধু আবেগ বা দায়িত্ববোধ দিয়ে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।
সীমান্তবর্তী এই জনপদের বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যমই এখনো ব্যক্তি মালিকানায় চলছে। কোনো কর্পোরেট স্পন্সর নেই, নেই বড় কোনো বাণিজ্যিক পৃষ্ঠপোষকতা। স্বভাবতই এভাবে টিকে থাকা কঠিন। তাই একান্ত প্রয়োজন, সংবাদমাধ্যমগুলোর নিজস্ব আয়ের উৎস তৈরি করা।
কিন্তু সেটা কিভাবে?
কিছু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে—
১. সঠিক তথ্য যাচাই করে জাতীয় ও স্থানীয় খবর নিয়মিত প্রকাশ করা—গুজব বা অর্ধসত্য নয়, সত্য ও নির্ভরযোগ্য খবর প্রচার করলেই পাঠকের আস্থা বাড়ে।
২. মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে—জনগণের সমস্যা, তাদের ভাষা, তাদের কথা তুলে ধরতে পারলেই সাধারণ মানুষ সংবাদমাধ্যমের পাশে দাঁড়াবে।
৩. ত্রাণ বিতরণ, সরকারি প্রকল্প বা দলীয় নেতাদের খবরের বাইরে বের হতে হবে—স্থানীয় মানুষের দুঃখ, দুর্দশা, প্রতিবাদ, কিংবা সাধারণ মানুষের সুখবর—সব ধরনের খবরকেই গুরুত্ব দিতে হবে। “এলাকার বদনাম হবে” এই অজুহাত দিয়ে খবর এড়িয়ে গেলে মানুষও সেই সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে যাবে।
৪. সংগঠন বা দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব বাদ দিয়ে সবাইকে সমান চোখে দেখতে হবে—সংবাদ মানে কারো তোষামোদ নয়, সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা।
৫. নিয়মিত, বস্তুনিষ্ঠ ও আপডেটেড সংবাদ পরিবেশন করতে হবে—এটাই দীর্ঘমেয়াদে পাঠকের আস্থা তৈরি করবে।
ফলাফল কী হবে?
-মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।
-স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পৃষ্ঠপোষকরা আগ্রহ দেখাবে স্পন্সর করতে।
-অনলাইন সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন (Ad) পাওয়া যাবে।
-সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম (ফেসবুক, ইউটিউব) থেকেও মনিটাইজেশনের মাধ্যমে আয় বাড়বে।
নিজস্ব আয় থাকলে সংবাদকর্মীরাও আর শুধুই দায়িত্ববোধের ভারে চাপা পড়বে না। তারা পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে নিজেরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে।
শেষ কথা:
সংবাদ মানে শুধু দায়িত্ব নয়, এটি হতে হবে পেশাদার ও টেকসই। তাই কেবল কৃতজ্ঞতার কিছু শব্দ নয়, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক কৌশল ও পরিকল্পনা। দায়বদ্ধতা আর অর্থনৈতিক সক্ষমতা একসঙ্গে চললেই জকিগঞ্জের সাংবাদিকতা এগিয়ে যাবে নতুন উচ্চতায়।
লেখক: উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সার
প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী পরিচালক -সাক্সেস জোন