প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Spread the love

জকিগঞ্জ টিভি :: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আনিসুল হকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর লন্ডনের একটি হাসপাতালে মারা যান জনপ্রিয় এই মেয়র। দিনটিকে স্মরণ করে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

স্বপ্নবাজ মানুষ আনিসুল হকের জন্ম ১৯৫২ সালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে। শৈশব কেটেছে ফেনীর সোনাগাজীতে, নানার বাড়িতে। অর্থনীতিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

বহুমাত্রিক জীবনে সফল এই মানুষটি ছিলেন চৌকশ উপস্থাপক, উদ্যমী ব্যবসায়ী, প্রজ্ঞাবান একজন নেতা। বাংলাদেশের মানুষ যার কথা শুনতো মন্ত্রমুগ্ধের মতো।

আশি ও নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে পরিচিতি পান আনিসুল হক। তার উপস্থাপনায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় আনন্দমেলা, অন্তরালে ও সবিনয়ে জানতে চাইয়ের মতো সব অনুষ্ঠান।

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে, বিটিভিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মুখোমুখি একটি অনুষ্ঠানও উপস্থাপনা করেছিলেন তিনি।

এক সময় জড়িয়ে পড়েন তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদী গ্রুপ। ২০০৫ ও ২০০৬ সালে বিজিএমইএ এবং ২০০৮ সালে এফবিসিসিআই-এর সভাপতি হন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক।

সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজকে নেতৃত্ব দেন ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত। বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠাগুলোর সংগঠন বিআইপিপি-এর সভাপতিও ছিলেন তিনি।

ঢাকার প্রকৃত বয়স মাত্র ৪০০ বছর, না কি ৬০০ না ৮০০ তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ঢাকার সবচেয়ে জনপ্রিয় সফল মেয়র নিয়ে কোন সংশয় নেই নগরবাসীর।

হাজারো সমস্যায় জর্জরিত এই শহরের মানুষ যখন হতাশায় নিমজ্জিত, তখনই পর্দায় আগমন সুপারম্যান এক মেয়রের। ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র নির্বাচিত হন স্বপ্নবাজ এই মানুষটি। তার স্বল্প সময়ের নেতৃত্বে, বদলে যেতে থাকে রাজধানী ঢাকার চেহারা।

তিনি বলতেন, সময়ের হিসেব আমরা জানি না। শেষে হার মানেন দুরারোগ্য এক ব্যাধির কাছে। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর, লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে।

মানুষ সংঘবদ্ধ হলে, পৃথিবী বদলে যেতে পারে। সেই বিশ্বাসে ঢাকাকে বদলে দেয়ার নায়ক বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। তাই মেয়র আনিসুল হকের জনপ্রিয়তার পারদ মৃত্যুর পর বেড়েই চলেছে।

২০১৭ সালের ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে লন্ডনে যান আনিসুল হক। সেখানে সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিসে (মস্তিষ্কের রক্তনালির প্রদাহ) আক্রান্ত হলে ১৩ আগস্ট তাকে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে অবস্থায় মারা যান তিনি।

ওপারেও ভাল থাকুন মানবিক ঢাকার রূপকার।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *