
আব্দুল মুকিত:::
সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক যেন এক নির্মম মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়নই এই পথে ঝরছে তাজা প্রাণ, আর দীর্ঘ হচ্ছে লাশের তালিকা। নিরাপত্তাহীন ও নজরদারিহীন এই সড়কটি এখন যাত্রীদের জন্য এক আতঙ্কের যাত্রাপথ।
গত কয়েক বছরে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এই রুটে। শুধু চলতি বছরের (২০২৫) জানুয়ারি থেকে জুন এই ছয় মাসেই জকিগঞ্জ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে নয় জনের। প্রতিটি মৃত্যুই হৃদয়বিদারক এবং প্রতিটি ঘটনাই প্রশ্ন তোলে কত প্রাণ ঝরলে জেগে উঠবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ?
২০২৫ সালের শুরুতেই, ৪ জানুয়ারির রাতে আটগ্রাম স্টেশনের পূর্ব পাশে সিএনজি ও ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত হন বিয়াবাইল এলাকার কমর উদ্দিন।
ক’দিন না পেরোতেই ১৯ জানুয়ারি সকালে, মায়ের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার পথে বাবুরবাজারে সড়কে প্রাণ হারায় মাত্র ছয় বছরের শিশু ইউসুফ খান। সে সুলতানপুর এলাকার জুবের আহমদের ছেলে।
২৪ জানুয়ারি কলাকুটা এলাকায় টমটম, মোটরসাইকেল ও ঠেলাগাড়ির ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত হন যুবক নাসির আহমদ (৩৩)। একই ঘটনায় আহত হন আরও তিনজন।
২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জামুরাইল গ্রামে গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মারা যায় সুহেল আহমদের সাত বছরের শিশু রহিম আহমদ।
১৫ এপ্রিল বিকেলে স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেলে থাকা ক্যাডেটহোম স্কুলের শিক্ষিকা জুঁই আক্তার বাসের ধাক্কায় নিহত হন। গুরুতর আহত হন তার ভাই লিমন আহমদ।
৬ মে বিকেলে, বিয়ের কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে আটগ্রাম বাসস্টেশনের পশ্চিম পাশে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ হারান হোসাইন আহমদ (২৫)। ১৫ জুন সকালে শাহবাগ স্টেশনের পাশে রাস্তা পার হওয়ার সময় সিএনজির ধাক্কায় নিহত হন চার সন্তানের জননী হোসনা বেগম (৫০)। তিনি বারহাল ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের রাকিব আলীর স্ত্রী।
সবশেষ,১৮ জুন কসকনকপুর ইউনিয়ন অফিস বাজারের দক্ষিণপাশে মাইক্রোবাস ও টমটমে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন হাসিতলা (রাড়িগ্রাম) গ্রামের সাহাব উদ্দিন সাবু (৫৫) এবং একই দুর্ঘটনায় আহত মানিকপুর ইউনিয়নের শাহজালাল পুর (পুরকায়স্থ বাড়ির) ছাব্বির আহমদের ছেলে ৩ মাসের শিশু আব্দুল্লাহ আল মুরছালিন ১৯ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
সংবাদকর্মী আবীর আল নাহিয়ান বলেন, রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা, অদক্ষ ড্রাইভার ও সচেতনতার অভাবেই এমন ঘটনা জকিগঞ্জে নিয়মিত হচ্ছে।
জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে। আমরা ড্রাইভার ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা আমাদের যায়গা থেকে নিয়মিত চেষ্টা করছি।
জকিগঞ্জের সাধারণ মানুষের একটাই চাওয়া প্রশাসন যেন সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আর যেন কোন তাজাপ্রাণ সড়কে ঝরতে না হয়।