
সিলেটের জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলায় পূর্বঘোষিত রোডমার্চ ও এলজিইডি ভবন ঘেরাও কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করেছে বিএনপি। প্রশাসনের আশ্বাস এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের দৃশ্যমান কিছু উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) সিলেট জেলা প্রেসক্লাব ও সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন)।
তিনি বলেন, “জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ দ্রুত মেরামত এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আমরা আগেই সময় দিয়েছিলাম। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাই ১৮ জুনের রোডমার্চ ও ঘেরাও কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।”
চাকসু মামুন জানান, গত ২৭ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন ও ৬ মে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে এসব দাবি উপস্থাপন করা হয়। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়েছিল। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তখন এক মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জকিগঞ্জে নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে বাঁধ মেরামতের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছে। এছাড়া এলজিইডি সিলেট অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজহারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের সড়ক সংস্কারে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
শেওলা-জকিগঞ্জ, কালিগঞ্জ-জকিগঞ্জ, আটগ্রাম-জকিগঞ্জ, বুরহানউদ্দিন সড়ক, কানাইঘাট-দরবস্ত ও গাছবাড়ি-হরিপুরসহ বিভিন্ন রাস্তা সংস্কারের জন্য একটি পৃথক প্রকল্পের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
এছাড়া কানাইঘাট উপজেলার ১নং লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সুরমা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব এলজিইডির সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে বলে জানান জেলা বিএনপির এই নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশীদ, জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমদ, কানাইঘাট বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মালিক চেয়ারম্যান, ওয়েস আহমদ, আব্দুন নূর, সাংগঠনিক সম্পাদক খসরুজ্জামান পারভেজ, যুগ্ম সম্পাদক কাওছার আহমদ বাঙ্গালী, কোষাধ্যক্ষ আবুল বাসারসহ দুই উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।