
জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধগুলোর এখনই জরুরি ভিত্তিতে মেরামত না করা হলে আবারও ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া ও নদী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
সরেজমিনে বিরশ্রী মাজরগ্রাম, লোহারমহল, মানিকপুর ও রারাই গ্রামের বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে দেখা গেছে, ভাঙনের স্থানে এখনও কোনো স্থায়ী মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ বর্তমানে এসব স্থান মেরামতের জন্য উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য প্রস্তুতি ও উদ্যোগ নিলেই এখনই বাঁধগুলো মেরামত করা সম্ভব।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামান্য বৃষ্টিপাত কিংবা পাহাড়ি ঢলেই পানি প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হতে পারে। এতে ঘরবাড়ি, ফসল ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের দাবি, উপজেলা প্রশাসন যেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয়দের সহায়তায় জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বলেন- পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত কাজ করার জন্য বলেছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস ও মাহফুজুর রহমান ভুইয়া বলেন – আমরা দ্রুত কাজ করার ব্যবস্থা করছি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সময়মতো যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হলে সম্ভাব্য দুর্যোগ এড়ানো সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, ১ জুন (রবিবার) গভীর রাত। শহর ও গ্রামের মানুষ যখন ঘুমে বিভোর, তখনই নীরব নিঃশব্দে নেমে আসে দুর্যোগ। উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বর্ষণে হু হু করে ফুলে ওঠে কুশিয়ারা নদী। মুহূর্তেই নদীর বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ে জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে গিয়ে শুরু হয় হাহাকার, ছুটে বেড়ানো মানুষ কেউ কোলে শিশু, কেউ টেনে ধরছে বৃদ্ধ বাবাকে।
ভোর হতেই স্পষ্ট হয় ভয়াবহতার চিত্র। রারাই, বাখরশাল ও লোহারমহল তিন জায়গায় কুশিয়ারা নদীর ডাইক তীব্র স্রোতে প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ জনপদ। জকিগঞ্জ পৌর শহর সম্পূর্ণ ডুবে যায় বন্যার পানিতে।