
সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জ। প্রতিবছর ঈদের সময় যেখানে দেশের অন্যান্য এলাকায় উৎসবের আমেজ থাকে, সেখানে বন্যার পানিতে জর্জরিত এই জনপদের মানুষদের ঈদের আনন্দ অনেক সময়ই হারিয়ে যায়। ডুবে যায় ঘরবাড়ি, নিভে যায় রান্নাঘরের চুলা, আর আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে ওঠে তাদের ঈদের ঠিকানা।
এই কঠিন বাস্তবতায় ঈদুল আযহার দ্বিতীয় দিন (৮জুন) বন্যাকবলিত ও দুঃস্থ মানুষের মুখে ঈদের কিছুটা হাসি ফিরিয়ে আনলো যুক্তরাজ্যভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা ‘আল খায়ের ফাউন্ডেশন’।
জকিগঞ্জের ৮নং কসকনকপুর ইউনিয়নের আইয়র জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে কুরবানির পশু জবাই করে বিতরণ করা হয় গোশত। এই কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জামেয়াতুল খাইর আল ইসলামিয়া সিলেট-এর শিক্ষা বিভাগীয় প্রধান মাওলানা আবদুল মুকতাদির। আয়োজনে অংশ নেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
গোশত হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয় দিনমজুর সোনা মিয়া। তিনি বলেন, “আমাদের এলাকার রত্ন মাওলানা মুফতি আবদুল মুনতাকিম-এর প্রচেষ্টায় প্রতি ঈদে এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে গোশত পাই। বাজার থেকে ১ কেজি মাংস কেনার সামর্থ্য নেই, তাই এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের।”
একই অনুভূতি প্রকাশ করেন বয়স্ক নারী ফুলজান বিবি, “১৯ বছর ধরে আমি এই ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে ঈদের সময় গোশত পেয়ে আসছি। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন, আমি দোয়া করি।”
আল খায়ের ফাউন্ডেশনের এই আয়োজন শুধু কুরবানির মাংসই নয়, মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
বন্যার অন্ধকারে এই আয়োজন হয়ে উঠেছে সত্যিকারের কুরবানির শিক্ষা ও মানবিকতার প্রতিফলন।