
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা ‘শতভাগ বিদ্যুতায়িত’ ঘোষণা পেলেও, বাস্তবচিত্রে ভিন্ন সুর। উপজেলার ৬নং সুলতানপুর ইউনিয়নের উত্তর ঘেচুয়া গ্রামের আটটি পরিবার এখনও বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে।
গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রায় চার বছর আগে গ্রামের সীমানায় পাঁচটি বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানো হয়। এতে তারা আশাবাদী হয়ে উঠলেও এরপর আর কোনো সংযোগ দেওয়া হয়নি। তাদের একাধিক লিখিত আবেদন ও স্থানীয় তদবির সত্ত্বেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বিভিন্ন আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ না থাকায় কোমলমতি শিশুরা কুপির আলোয় পড়াশোনা করে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত থাকায় স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও শিক্ষার মতো মৌলিক সেবা থেকেও তারা পিছিয়ে পড়েছে।
“বয়স হয়েছে, চোখে ভালো দেখি না। আলো ছাড়া কীভাবে বাঁচি?”বলছিলেন গ্রামের এক বৃদ্ধ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী মহলের অসহযোগিতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামটি অবহেলিত থেকে গেছে। তাদের ভাষায়, “চাইলে হতো, কিন্তু কেউ চায়নি।”
সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার বলেন, “এই গ্রাম বিদ্যুৎসেবার বাইরে কীভাবে রয়ে গেল, তা আমার জানা নেই। বর্তমানে বিনামূল্যের কোনো সংযোগ প্রকল্প নেই, ব্যক্তিগত খরচেই সংযোগ নিতে হবে।”
তবে কিভাবে খুঁটিগুলো সেখানে বসানো হয়েছিল, সে সম্পর্কেও তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
সরকার যখন প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিদ্যুৎ পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তখন উত্তর ঘেচুয়ার পরিবারগুলোও আশায় বুক বাঁধে কবে আসবে সেই আলো, যেটা বদলে দেবে তাদের জীবনের অন্ধকার।