জকিগঞ্জ টিভি :: সিলেটের জকিগঞ্জের কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য আলোচিত আব্দুস সালাম মেম্বারকে আটক করেছে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পার্শ্ববর্তী কানাইঘাট উপজেলার ১নং লক্ষিপ্রসাদ ইউনিয়নের কাড়াবাল্লা এলাকা থেকে ভারতে যাওয়ার পথে আটক করা হয়।
বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মোঃ আব্দুন নাসের। এর আগে কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য এবাদুর রহমানসহ সালাম মেম্বারের সহযোগী আনোয়ার হোসেন ও শাহজাহানকে আটক করেছে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ।

জানা যায়, জকিগঞ্জ উপজেলার চারিগ্রামের মৃত মুহিবুর রহমান ঢালই’র ছেলে ইউপি সদস্য আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন থেকে বিচারের নামে অমানুষিক নির্যাতন, নারী কেলেঙ্কারী, দখলবাজী ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ চলে আসছিল। কিন্তু ছলে, বলে ও কৌশলে সে একে একে সব কিছুতেই পার পেয়ে যায়।
গতকাল বুধবার ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম কর্তৃক একই ইউনিয়নের বড়বন্দ গ্রামের মৃত সফর আলীর ছেলে গিয়াস উদ্দিনকে অমানুষিক নির্যাতনের ভিডিও সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হলে সর্বত্র ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠে। তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সর্ব মহলে দাবী উঠে।
এছাড়া গত ১০ নভেম্বর উপজেলার আটগ্রাম আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা নও মুসলিম আব্দুল মান্নান বুতুলের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় চলে আসেন ইউপি সদস্য আব্দুস ছালাম। নও মুসলিম আব্দুল মান্নান বুতুলকে ইউপি সদস্য আব্দুস ছালাম গং বেদড়ক মারধর করে জোরপূর্বক বিষ পান করিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ৩টায় সে মারা যায় বলে অভিযোগ করেন মৃত বুতুলের চাচাতো ভাই শাকিল আহমদ।
গত ১৪ নভেম্বর সিলেটের পুলিশ সুপার বরাবর এক লিখিত অভিযোগে শাকিল আহমদ বলেন, চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে আমরা কান্না করলে সালাম মেম্বার তাদেরকে বলেন, যদি কান্নাকাটি করেন তাহলে তাদেরকে মার্ডার মামলায় ডুকিয়ে দেবেন। তাদেরকে তিনি নিশ্চুম থাকতে বলেন। পরদিন ছালাম মেম্বার সহ সঙ্গী সাথী ৪/৫ জন এশার নামাজ চলাকালীন সময়ে চুপিশারে প্রচার মাইকিং না করে অন্ধকারে লাশ দাফন করেন।
সূত্র – জকিগঞ্জ সংবাদ