
বর্তমানে দেশের সর্বসাধারণ কঠিন সময় অতিবাহিত করছে। মানবতা ও স্বাধীনতা আজ ভূলণ্ঠিত। আইনের শাসন আজ কোথাও নেই। দুর্নীতিতে নাকাল হয়ে পড়ছে দেশ। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে দেশবাসী দিশেহারা। মত প্রকাশ ও কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এহেন ভয়াবহ পরিস্তিতে দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত দেশ গঠনের করতে হলে ইসলামী শাষণ প্রতিষ্ঠা করার কোনো বিকল্প নেই।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ জকিগঞ্জ উপজেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব, দেশের শীর্ষ ইসলামী চিন্তবিদ মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এসব কথা বলেন।
সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনারের নিকট সাত দফা দাবী পেশ করেছি। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। অন্যতায় এ দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সরাসরি ভোট প্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে। আমাদের বিশ্বাস ইসলাম ছাড়া ইনসাফ ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করার আর কোনো সুরক্ষিত ব্যবস্থা নেই। পানি ছাড়া মাছ বাঁচার যেমন কোনো পথ নেই। ঠিক তদ্রুপ ইসলাম ছাড়া মানবতার বাচাঁর ও শান্তি লাভ করার কোনো পথ নেই।
২২ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে জকিগঞ্জ পৌরশহরের ইখওয়ান সেন্টারে উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা জাওয়াদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি মাওলানা বিলাল আহমদ ইমরান, সহ-সাধারণ সম্পাদক কে এম মামুন এবং মাওলানা ফয়সল আহমদের যৌথ পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুফতি মাহমুদ হুসাইন।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা শায়খ জিয়া উদ্দীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শাখার উপদেষ্ঠা শায়খুল হাদীস মাওলানা আব্দুল মুসাব্বির আইয়রী, কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা ফয়যুল হাসান খাদিমানী, মাওলানা আব্দুর রহমান সিদ্দিকী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কারী আবদুল হাফিয, ইউকে জমিয়তনেতা মাওলানা আব্দুর রব, সিলেট জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মালিক কাসিমি, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুফতি শিব্বীর আহমদ, প্রচার সম্পাদক মাওলানা রায়হান উদ্দীন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ আহমদ, প্রমূখ।
পরিশেষে দেশ-জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন জকিগঞ্জ উপজেলা জমিয়তের অভিভাবক পরিষদের চেয়ারম্যান আল্লামা শায়খ মুকাদ্দাস আলী।
কর্মীদের উদ্দেশ্যে মহাসচিব বলেন: খোদাভীরুতা, পরকালের জবাবদিহীতার ভাবনা ও সুন্নাহের অনুসরণের মাধ্যমে আমাদেরকে ইসলামের বাস্তব প্রতিচ্ছবি হতে হবে। সাহাবায়ে কেরামের ন্যায় সংগ্রাম ও সাধনার নজরানা পেশ করতে হবে। প্রতিটি ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডে জমিয়তের দূর্গ গড়ে তুলতে হবে। সকল নির্বাচনে প্রতিদ্বনধিতায় অবতীর্ণ হয়ে বিজয়ী হওয়ার মতো শক্তি অর্জন করতে হবে। সকল কর্মীদেরকে আপাদ মস্তক নববী সুন্নাহের রঙ্গে রঙ্গীন হতে হবে। দলের সকল শীর্ষ মুরব্বি ও দায়িত্বশীলদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সম্মান পোষণ করতে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পরিপূর্ণ শরীয়তের অনুসারী। আমাদের দল কারো একক নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়না। অভিবাভক- মুরব্বি দায়িত্বশীলদের পরস্পর নিয়মতান্ত্রীক আলোচনা ও পরামর্শের দ্বারা সব বিষয় নির্ধারিত হয়। তাকওয়াহ ও সুন্নাহ ভিত্তিক, সুশৃঙ্খল কর্মীবাহিনী গঠনের স্বপ্ন পোষেছি। মানবতাকে অন্ধকার থেকে বের করে মহাসত্যের পথে নিয়ে আসার পণ করেছি। সকল কর্মীদেরকে সাহাবায় কেরামের ন্যায় নিষ্ঠাবান, ত্যাগি ও সংগ্রামী হতে হবে।