এম. এ ওয়াহিদ চৌধুরী::
কি দিয়ে লেখা শুরু করবো পাইনি ভাষা খুঁজে,
আমার মতো হাজার জনের চোখে অশ্রু ভিজে।
আপনজন সবার, সিলেটবাসীর নেতা, সর্বস্তরের জনগণকে আদর করতেন ভালো বাসতেন। তাঁর মাঝে সবচেয়ে বেশি গুণ ছিলো যে দল মত নির্বিশেষে সব ধরনের মানুষকে সহযোগিতা করতেন এবং ভালোবেসে আগলে রাখতেন। হাসিমুখে কথা বলাই ছিলো যেন এক অভ্যাস। আমি দেখিনি কোনদিন কারো সাথে রাগ করতে কিংবা কারও সাথে অসদাচরণ আচরণ করতে, একজন বড়মাপের মানুষ হিসেবে তাঁর ছিলো যথেষ্ঠ গুণ। মানুষের কল্যাণে কাজ করাটাই ছিলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, মহান রবের সাথেও তাঁর সম্পর্কটা ছিলো বেশ ভালো। হজ্জ এবং ওমরা সহ বেশ কয়েকবার দেখেছি মসজিদে ইতিকাফ করতে। সিলেট নগরীর ২৭ টি ওয়ার্ডের সাথে ছিলো তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। একজন ক্ষুদ্র গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে বিভিন্ন সময় কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিলো, অনেক সহযোগিতা পেয়েছি।

এত বড় মাপের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া স্নেহ, আদর এবং ভালোবাসাটুকু কোন দিনই ভুলার নয়। ২০১৮ সালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সেতুবন্ধন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি ছিলেন প্রধান অতিথি। আমি ছিলাম অনুষ্ঠানের সঞ্চালক, অনুষ্ঠান শেষে বিদায় দেয়ার সময়ই পিএস কে উচ্চ সুরে ধমক দিয়ে বল্লেন ওর সাথে ছবি তুলে দাও। পরদিন দেখি ফেসবুক ছবি পোস্ট করলেন, তখন আমিও পোস্টটি শেয়ার করলাম। এভাবেই অনেক স্মৃতি আজও বুকের মাঝে চাপ দিচ্ছে, ভাবতেই পারিনি যে এত কম সময়ে তিনি বিদায় নিয়ে চলে যাবেন তবুও মহান মালিকের ইচ্ছা। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জননেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। উল্লেখ্য, করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের এই দিনেই ইন্তেকাল করেছিলেন তিনি।
লেখক- সংবাদকর্মী, সম্পাদক নিউজ এ টুয়েন্টিফোর ডটকম, সদস্য সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।