লন্ডনে ক্রয়ডন কাউন্সিলের মেয়র হলেন জকিগঞ্জের শেরওয়ান চৌধুরী

Spread the love

যুক্তরাজ্যে লন্ডনের ক্রয়ডন কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সন্তান শেরওয়ান চৌধুরী। মেয়র হিসেবে মঙ্গলবার (৪ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি।

লন্ডনের ৩২টি বারার মধ্যে সবচেয়ে বড় বারা ক্রয়ডনের মেয়র হিসেবে আগামী এক বছর দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
মঙ্গলবার তাঁর কাঁধে দায়িত্ব তুলে দেন সদ্য বিদায়ী মেয়র মেডি হেন্ডসন। এসময় তাঁর (শেরওয়ান) গলায় ৫ কেজি ওজনের গোল্ড মেডেল পরিয়ে নতুন মেয়র হিসেবে বরণ করে নেয়া হয়।

করোনা মহামারির কারণে মেয়র শেরওয়ান চৌধুরীকে বরণ করে নিতে মঙ্গলবার বিকেলে ক্রয়ডনের টাউন হলে লন্ডন সময় বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) সীমিত পরিসরে সরাসরি এক অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্টানের মাধ্যমেই হস্তান্তর হয় দায়িত্বভার। এ সময় কাউন্সিলের ৭০ জন কাউন্সিলর ছাড়াও কমিউনিটির কর্তাব্যক্তিরা ভার্চুয়ালি অনুষ্টানে যোগ দেন।

উল্লেখ্য, জকিগঞ্জের আটগ্রাম এলাকার চারিগ্রামের আব্দুর রকিব চৌধুরীর ছেলে শেরওয়ান চৌধুরী ১৯৭৬ সালের দিকে পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। বাংলাদেশে থাকাকালীন সময়ে সিলেট সরকারি কলেজে ছাত্র রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকার কারণে সেখানে গিয়েও যুক্ত হন রাজনীতির অঙ্গনে। তবে সেখানে গিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের কোন শাখার সাথে যুক্ত না হয়ে সরাসরি ব্রিটিশ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৯০ সালের দিকে ব্রিটিশ লেবার পার্টিতে যোগ দেন তিনি।

মাত্র চার বছরের মধ্যে তিনি নিজেকে রাজনীতির অঙ্গনে পাকাপোক্ত করে নিতে সক্ষম হন। ১৯৯৪ সালে সেন্ট্রাল লন্ডনের ক্রয়ডনের বেউলা ওয়ার্ড থেকে লেবার পার্টির মনোনয়ন নিয়ে জয়লাভ করেন। স্থানীয়ভাবে একজন সফল কাউন্সিলর হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন শেরওয়ান চৌধুরী। এরপর আর পেছনের দিকে থাকাতে হয়নি তাঁকে।
২০০৬ সালে নরবারি ওয়ার্ড থেকে পুণরায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১০,২০১৪ ও সর্বশেষ ২০১৮ সালে নির্বাচিত হন কাউন্সিলর। এভাবেই মোট ৫ বার লেবার পার্টি থেকে নির্বাচন করে কাউন্সিলর হিসেবে বিজয়ের মালা বরণ করে নেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনে শেরওয়ান এক কন্যা ও দুই পুত্রের জনক। তাঁর স্ত্রী রহিমা চৌধুরী ক্রয়ডনের স্থানীয় একটি স্কুলে দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন। তিনিই যুক্তরাজ্যে বসবাসরত জকিগঞ্জের বাসিন্দাদের মধ্যে একমাত্র ব্যক্তি যিনি একাধারে কাউন্সিলর, পরবর্তীতে ডেপুটি মেয়র ও এবার সরাসরি মেয়রের পদ অলংকৃত করলেন।

কৃতজ্ঞতা – সিলেট ভিউ


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *