
আমি আজ এমন একজন কর্মপাগল মানুষ নিয়ে কিছু লিখতে চাই, আসলে তিনি একজন পুলিশ অফিসার হলেও কর্মক্ষেত্রে উনার নিপুন কর্মদক্ষতা, মানবিকতা, সামাজিকতা সকল গুণাবলী দিয়ে পুলিশ যে জনগণের বন্ধু তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেই চলছে।জকিগঞ্জ আসার আগেও ব্যক্তিগত ভাবে উনার সাথে আমার কিছুটা পরিচয় ছিল, কিন্তু তিনি যে এত চৌকস পুলিশ অফিসার সেটা আমার জানা ছিল না।
একটা বিষয়ের জন্য তিনি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার, আগে থানা এলাকায় কোন অপরাধ সংঘটিত হলে বা কোন আসামী গ্রেফতার হলে সংবাদ সংগ্রহের জন্য থানায় একাধিক বার যোগাযোগ করতে হত। আজ ওসি মীর মোঃ আব্দুন নাসের প্রমাণ করে দিলেন তিনি একজন মিডিয়া বান্ধব পুলিশ অফিসার তিনি নিজ থেকে সবকিছু জনসম্মুখে তুলে ধরেন। উনার সকল কাজে জনগণের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে, মূলত তিনি সবসময় নিজেকে জবাবদিহিতার উর্ধ্বে নয় বলে মনে করেন।
এমন স্বচ্ছতার নজির দেশের কোন থানায় আছে কি না আমার জানা নেই।
তিনি যেমন অপরাধীর জন্য আতঙ্ক, তেমন ভাল মানুষের একজন ভাল বন্ধু বটে। তাঁর কাছে গরীব ধনী, ছোট বড় প্রভাবশালী কোন বৈষম্য নেই।কাজের ক্ষেত্রে তিনি সর্বোচ্চ জবাবদিহিতামূলক মনমানসিকতা নিয়ে কাজ করেন। ফলস্বরূপ জীবনের প্রথম ওসি হয়েই পেয়েছেন টানা ৪ বার সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ ওসির মর্যাদা।
বিশেষ করে জকিগঞ্জ উপজেলাটি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক পরিবহনের রুট হিসাবে অপরাধীরা ব্যবহার করতে চায় কিন্তু শক্ত হাতে তা দমন করে রেকর্ড সংখ্যক মাদককারবারী কে গ্রেফতার করে সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
একজন ছোট সংবাদকর্মী হিসাবে এলাকায় গেলে আগে অতীতের যে কোন সময় ওসির বিরুদ্ধে মানুষের নানা অভিযোগ থাকত। আর এখন মানুষ বলে আমাদের নাসের ভাই আছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উনার যে কোন পোষ্টের কমেন্ট গুলো দেখলে আপনারা বুঝতেই পারবনে উনি পুলিশং সেবা দিয়ে সাধারন মানুষের কতটা কাছাকাছি আসতে পারছেন।
আমার এই লেখাটা কেউ ভাববেন না উনাকে খুশি করার জন্য, আসলে সত্য কথাটি বলে কর্মক্ষেত্রে জকিগঞ্জের একজন নাগরিক হিসাবে ভাল কাজে সহযোগিতা করা।
তিনি শুধু কর্মক্ষেত্রে নয় সুযোগ পেলেন স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে যান, পিকচার তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আপলোড করেন।
জননেত্রী শেখ হাসিনা এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। মানুষ এর সুফল ভোগ করছে ঘরে বসেই। পুলিশ জনগণের কাছাকাছি আসতে পেরেছে, মাঝে মধ্যে পুলিশের অনেক মানবিকতার দৃষ্টান্ত চোখে পড়ে। এইতো গেল কয়েকদিন আগে একজন পুলিশের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সেখানে দেখলাম তিনি একজন পঁচে যাওয়া মানুষকে সেবা দিয়ে সুস্থ করেছেন। দশ বছর থেকে নতুন জামা কিনেন নাই শুধু অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর কারণে। তাই পুলিশের প্রতি আমাদের জনগণের চিন্তা চেতনা পরিবর্তনের সময় এখনই।
থানায় কোন অনৈতিক দাবি বা কাউকে হয়রানি করার জন্য যাবেন না। ছোট খাটো বিষয়কে নিজ এলাকায় সমাধান করে নিলেই তো হলো। আমরা জনগণ সচেতন হতে হবে, পুলিশকে কোন অনৈতিক প্রস্তাব না দিলে পুলিশ ও যে কোন অবৈধ সুবিদা নিতে নিরুৎসাহিত হবে। আমরাই যে সমাজে বাস করি সেই সমাজের আরেক ভাইকে ঘায়েল করার জন্য পুলিশ কে অবৈধ সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করি আবার অপবাদ দেই, এটি মোটেই কাম্য নয়।
পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ।পুলিশ এই দেশের সুনাগরিক। এরা কারো ভাই, বাবা, চাচা, বোন। সমাজটা পরিবর্তন করা শুধু পুলিশের একা কাজ নয়।জনগণকেও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে।
লিখেছেন-
এটিএম ফয়ছল
সমাজকর্মী
আহবায়ক- জকিগঞ্জ নাগরিক পরিষদ।