নিরবে ভালবাসি (ছোট গল্প) – জুঁই ইসলাম

Spread the love

রাত ১২.০০টা অপরিচিত নাম্বার থেকে একটা মেসেজ আসল সাদিয়ার মোবাইলে। লেখা ‘আই লাভ ইউ’ সাদিয়া ভাবে অচেনা নাম্বার হয়তো ভুল করে কেউ মেসেজ দিসে। কিন্তু পর পর তিনটা মেসেজ ‘আই লাভ ইউ’ লেখা। সে ভাবছে কে হতে পারে ? রিপ্লে দিবে কি না ভাবছে ঠিক ঐ মুহুর্তে কল আসল। সাদিয়া ফোনটা রিসিভ করে বলে হ্যালো কে বলছেন ? অপরপ্রান্ত থেকে বলে উঠল আমি হাসান। সাদিয়া বলে ওহ তুই বান্দরটা নাকি ? হাসান বলে এটা আমার নতুন নাম্বার, আর শোন আমাকে কথায় কথায় আমাকে বান্দর বান্দর বলবে না। আমি তুর ছেলের বাপ হব জেনে রাখিস একদিন। আমাকে বান্দর বললে তুই বান্দরের বউ। শোন সাদিয়া আমার একটা কথা রাখবে আজ ? কি বল। আয় না একটু ছাদে যাই। কেন ? কেনো আবার আমার মন চাচ্ছে তুকে দেখতে. আজ ভালবাসা দিবস ? শোন তোর পাগলামো স্বভাবটা কি যাবে না? ভালবাসা না ঘোড়ারডিম দিবস এসব আমি পালন করি না। মন কেন চাচ্ছে এত রাতে রাতে আমাকে দেখার, সন্ধ্যাতো দেখা হল। আচ্ছা সাদিয়া তুই কি কোনোদিন বুজবে না আমাকে ? আয় না প্লিজ ছাদে যাই।
সাদিয়া ছাদে যাওয়ার জন্য বিছানা ছেড়ে কয়েক পা এগিয়ে দরজা খুলবে ঠিক তখনই মা জিজ্ঞেস করলেন কি রে এত রাতে কই যাচ্ছিস? সাদিয়া বলে মা আমার ঘুম আসছে না একটু ছাদে যাব। না এত রাতে কেন যাবি ? আয় আমার কাছে মাথা বুলিয়ে দিলে ঘুমিয়ে যাবে। কোন উপায় না দেখে সাদিয়া মায়ের পাশে শুয়ে পড়লো। মায়ের আদর পেয়ে কখন যে ঘুমিয়ে গেল ছাদে যাওয়ার কথা ভুলে গেল।

চারিদিকে ফজরের আযান হচ্ছে ঠিক তখন তার ঘুম ভাঙ্গল । ঘুম থেকে উঠেই ভাবল হাসান যে ছাদে আসার কথা বলছিল। সে আস্তে দরজা খুলে ছাদে গেলো দেখলো হাসান ঠান্ডার মাঝে মোমবাতি কয়েকটি জ্বালিয়ে বসে আছে। কিরে এখন আসলে আমি তো সারারাত তোর অপেক্ষায় আর তুই শেষরাতে আসলে। কি করবো আমি যখন আসব ঠিক তখন মা আমাকে আটকিয়ে দিলেন। মা ঘুম পাড়িয়ে দিলেন যে।
কেন তুই কি শিশু তুকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে ?
আমি তাদের কাছে শিশুই, একটি মাত্র মেয়ে তো। সে তুই বুজবে না। সাদিয়া হাসানকে বলে আমি সরি আছিরে তুর কাছে ,ঘুম আসলো তো কি করব বল ?। এখন বল কেন ডেকেছিলে ?

কেন আবার আমার সুইট বউটাকে দেখতে ইচ্ছে করছিল খুব তাই। আমাকে আবার নতুন করে দেখার কি আছে। রোজই তো দেখিস। একই বিল্ডিং এ থাকি। আজ চার বছর থেকে দেখে আসছিস। একই কলেজে পড়ি শুধু মাত্র ক্লাস মিল নেই। দু‘জন দু‘ক্লাসে। আর শোন কথায় কথায় আমাকে বউ বউ করে ডাকবে না। লোকে শুনলে কি বলবে ? হাসান বলে লোকে কি বলবে মানে ? আমার তো ইচ্ছে করে সারা পৃথিবীকে জানিয়ে দিই –তুই আমার বউ। প্লিজ হাসান এভাবে বলিস না মা-বাবা জানলে তুর খবর করবেন। করুক, আমি ভয় পাই না । আর তারা আমার খবর করলে তুর কি, তুই তো আমাকে ভালবাসিস না।
হাসান বলে সে তুই বুজবি না আমি তুকে কতটুকু ভালবাসি।

সাদিয়া বলে শোন হাসান দরকারী কিছু থাকলে বল রোজই তো বলিস এসব ভারবাসার কথা, আমার খুব ঘুম পাচ্ছে তাছাড়া মা যদি দেখেন সমস্যা হবে, আমি যাই। হাসান বলে- তুইতো ঘুমের রানী। খালি ঘুম আর ঘুম। দিনে ফোন দিলে বলে ঘুমে ধরেছে বলিস, রাতে দিলে ঘুম। আমি যে তুর জন্য সারা রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলাম। সাদিয়া বলে আমি কি বলছি তুই না ঘুমিয়ে ঠান্ডার মাঝে ছাদে বসে থাকতে। তুই বলিসনি ঠিক আছে কিন্তু তুই কি বুজিস না কেন আমি এসব করি। তুকে আর কিভাবে বোঝাবো আমার মনে কথা-প্লিজ একটি বার আমার মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা কর। একটিবার মুখ খুলে বল আমায় ভালবাসিস। শোন আমি এ নিয়ে কতবার তুকে আই লাভ ইউ বলেছি হিসাবে আছে ? সাদিয়া চট করে বলে আজকে তিনবার বলেছিস এই নিয়ে প্রায় হাজারবার হবে হয়তো। অহ আচ্ছা তুই কি এই জীবনে একবারও বলবে না আমায় আই লাভ ইউ। না , প্লিজ আজকে ভ্যালেনটাইন ডে তুই আমাকে একটিবার ভালবাসি বল না রে। এই কথাটি শোনার জন্য সারারাত অপেক্ষায় আছি, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে প্লিজ তুই একটিবার ভালবাসি এই শব্দটি বল। সাদিয়া বলে না, পারব না এসব বলতে। আমি যাই ঘুমাবো রে। হাসান রাগ-দুঃখে বলে যা ঘুমা, তোর মুখ দেখতে চাই না আর। সাদিয়া কিছু না বলেই ছাদ থেকে চলে যায় একটিবারও হাসানের দিকে আর তাকায় না। হাসান অপলক নয়নে সাদিয়ার চলে যাওয়া দেখে সে ভাবে সাদিয়া ফিরে এসে বলবে ভালবাসি কিন্তু না সাদিয়া নিরবে চলে যায়। সাদিয়া ফিরে এসে সে আবারও বিছানায় লম্বা একটা ঘুম দিয়ে উঠে ঠিক সকাল ১০টায়। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলো হাসানের মেসেজ লেখা ঘুম থেকে উঠে ছাদে যাবি। ঘুম থেকে উঠে ছাদে গেল সাদিয়া। গিয়ে দেখলো ছাদে একটা খাম পড়ে আছে সাথে কিছু ফুল আর চকলেট। খামটা হাতে নিয়ে খুললো দেখলো একটা চিঠিতে শতবার লিখা ‘আই লাভ ইউ’ লাল বর্ণের অক্ষর দিয়ে(রক্ত দিয়ে) আর শেষে লেখা আমি আজ ৩টার ফ্লাইটে কানাডা চলে যাচ্ছি তুকে আর বার বার বলবো না ছাদে আয় কিংবা ফোন দিয়ে যখন তখন ঘুম থেকেও তুলবো না। গতরাত ছাদে ঢেকেছিলাম তুকে ভাবলাম যদি এই ভালবাসা দিবসের রাতে তুই একটি বার আমাকে ভালবাসি বলিস কিন্তু তুই ভালবাসা বলা তো দূরে তুই এলেই না। শেষরাতে যখন এলে তখনও তুর ঘুম ধরেছে বলে চলে গেলি। আমার কপাল খারাপ তুকে বুঝাতে পারিনি হয়তো আমার মনের কথা। যখন তখন তুকে ডাকতাম, বিরক্ত করতাম কিন্তু শুধুমাত্র তুকে পাওয়ার জন্য, তুকে এক পলক দেখার জন্য আর ডাকবো না, বিরক্তও করব না রে। তুকে কতটুকু ভালবাসি তার অনেক প্রমাণ তুর কাছে আছে কিন্তু তারপরও তুই নিরব আমি জানি না এর কারণ। আজ প্রায় দু‘বছর থেকে ভালবাসি বলে আসছি, তুই আমার জীবনের প্রথম ভ্যালেটাইন এটা জেনে রাখিস। আমি খুব কষ্ট পেয়েছিরে একটিবার তুর মুখ থেকে ভালবাসি শব্দটি শোনার জন্য। আমার কপাল খারাপ। তুকে খুব মিস করবো। ভাল থাকিস, আমার ভালবাসা ভুলে যাস।
চিঠিটা পড়ে সাদিয়ার চোখে পানি জমে গেল। শুধু মনে মনে বলতে লাগলো- ঘোড়ারডিম ভালবাসা দিবস আমি তোকে বারোমাস ভালবাসি। আচ্ছা ভালবাসি কথাটা কি শুধু মুখে বলতে হয় প্রিয়জনকে। কিছু কিছু ভালবাসা বুজে নিতে হয়রে গাধা। তোর পাগলামোটাকে যে বড্ড ভালবাসি। আমি মুখে ভালবাসি বলে দিলেই তো ত্রু পাগলামি বন্ধ হয়ে যাবে তুর সে পাগলামো দৃশ্যগুলো আমি দেখতে পাবো না। তাই মুখে বলিনি কখনো ভালবাসি। নিরবে কি ভালবাসা যায়।

লেখক- জুঁই ইসলাম, কলামিস্ট।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *