জকিগঞ্জ টিভি (রেদ্বওয়ান মাহমুদ) :: চলছে শীতকাল ; মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময়। কনকনে শীত আর হিম হিম কুয়াশা গ্রামাঞ্চল আচ্ছাদিত করে রেখেছে। ভোর আর সন্ধ্যার কুয়াশা মিলেমিশে একাকার, এ দুয়ের মাঝে তেমন পার্থক্য খালি চোখে ধরা পড়ে না।
শীত নিবারণে গরম কাপড়, সোয়েটার, জ্যাকেটের বিকল্প নেই। তবে সবাই যে তা নিয়েই শীত তাড়ানোর চেষ্টা করবে, এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ; শীত তাড়াতে তিনশ্রেণীর মানুষের যুদ্ধ ভিন্নরকম।
শীতকালে গ্রামাঞ্চলে কুয়াশাজড়ানো সন্ধ্যায় প্রায়ই যে দৃশ্য চোখে পড়ে তা হচ্ছে, খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চিত্র। জকিগঞ্জের প্রায় প্রত্যেকটি জায়গায় ‘আগুন তাবানি’ নামেই এটি পরিচিত। বিভিন্ন বয়সী মানুষ জড়ো হয়ে বৃত্তাকার আকৃতি ধারণ করে মধ্যখানে জ্বালিয়ে রাখেন খড়কুটো। আগুনের তাপ স্বল্প সময়েই শীত তাড়াতে সক্ষম হয়। আগুনের মাত্রা কিছুটা কমে যখন ধোঁয়া ছড়ায় আশপাশে, তখন ধোঁয়া তাড়াতে তাড়াতে শীত নিবারণকারীরা বলে উঠেন ‘আমার বাড়িত পানিভাত, হবাড়িত দুধভাত, আমার বাড়িত পানিভাত, হবাড়িত দুধভাত।’
এভাবে চার-পাঁচ মিনিটের আগুন কিছু সময়ের জন্য হলেও মানুষকে শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচিয়ে রাখে।
গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলোতে শীতকালে এটি প্রতিদিনের রুটিন। শীত তাড়ানোর ক্ষেত্রে এ যেন এক অভিনব কৌশল।
তবে আগুন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে সচেতন থাকা প্রয়োজন। নচেৎ এটিই হতে পারে, বড় দুর্ঘটনার কারন।