
আমি কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক নই। তারপরও স্বৈরাচার আমলে অনুষ্ঠিত হওয়া সবশেষ নির্বাচনে আমি কাকে ভোট দিব, সেটি মনে মনে ঠিক করে ফেলেছিলাম নির্বাচনের অনেক আগে। জকিগঞ্জ-সিলেট রোডে বিআরটিসি বাস এসেছে কার মাধ্যমে? এই প্রশ্নের উত্তর লোকমুখে শুনেছি- মাসুক উদ্দিন আহমদ। ব্যস, এই একটি কারণ। আমার ভোট যাচ্ছে তাঁর পক্ষেই।
কিন্তু, শেষমেশ ব্যালট বাক্সে আমার যে ভোটখানা জমা হয়েছে, তাতে মাসুক উদ্দিনের নৌকার পাল্লা ভারি হয়নি। ঐ নির্বাচনের মাঠে যখন আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী নামলেন, আরও বেশি উন্নয়নের সম্ভাবনায় তাকিয়ে তাঁকেই ভোটটা দিয়েছিলাম।
ভাগ্যের কী খেল দেখুন! প্রথম যেবার আমি জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিলাম, সেবার আমাদের সাংসদের মেয়াদ কিনা হলো মাত্র সাত মাস! এবার আসন্ন নির্বাচনের আলাপে হুছামুদ্দীন সাহেবের নাম উঠে আসছে না।
নতুন অনেকের নাম দেখতে পাচ্ছি যাদের কিনা প্রথমবার চিনতেই পেরেছি ৫ আগস্টের পর। বলা বাহুল্য তাদের বেশিরভাগ হচ্ছেন বিএনপির সদস্য। কয়েকজনের ছবি ভেসে উঠছে নির্বাচনী প্রচারণায়, কিন্তু তাদের ব্যাপারে জানাশোনা শূন্যের কোঠায় প্রায় এবং এই দলে আমি একা নই বলেই বিশ্বাস করি। ভরসার উপর নির্ভর করে বহু প্রার্থীর ঘরে তাই যাবে এবারের ভোট৷ সেই ভরসার প্রতিদান যেন নির্বাচিত সাংসদ দিতে পারেন, এই আশা থাকবে।
জনগণের আশার জমি কী খুব বড়? উর্বর এই জমিতে ভালো চাষ পেতে হলে খুব বেশি মেহনতের প্রয়োজন পড়ে না বলেই ধারণা রাখি। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এখানে উন্নয়নের বন্যা ভেসে যাবে এমনটা কেউ আশা করে না।
শুধু দৈনন্দিন জীবনে নূন্যতম যেসব জিনিসের দরকার, তা হলেই চলে। এক বিআরটিসি বাসের দরুণ যাত্রাপথের ভোগান্তি দূর করার কারণেই যেমন বললাম ভোট দিয়ে ফেলবো ঠিক করেছিলাম।
সবচেয়ে বেশি অভাব হচ্ছে চলাচলের জন্য উপযুক্ত রাস্তার। এই চাওয়াটা সবার উপরে থাকবে বহু লোকের। জকিগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে আরেকটি সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে দিন দিন। বন্যা! বন্যার পানি থাকার সময় তো থাকেই, বন্যার পানি যাওয়ার পরও যে রেখে যায় নানাবিদ কষ্ট। সিলেট-৫ আসনের ভবিষ্যত সাংসদের কাছে বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশা করি। সবমিলিয়ে নিজের এলাকা নিয়ে ভাববেন এটাই প্রত্যাশা।
আশার ঘর আসলে অল্প জায়গা নিয়েই আছে। ঘরটা তাই কোন সাংসদের পক্ষে ভরপুর করে ফেলা সহজই বটে।
লেখক: রিফাত বিন জামাল
ফ্রিল্যান্স স্পোর্টস রাইটার ও শিক্ষার্থী, এমসি কলেজ, সিলেট
