স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল ; আজ অবধি মেলেনি স্বীকৃতি – মোঃ বাহার উদ্দিন

Spread the love

ঐতিহাসিক স্মরণীয় একটি দিন, ২১শে নভেম্বর। সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস। জকিগঞ্জের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। রক্তঝরা একাত্তরের এই দিনে সারাদেশে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছিল তখন ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় ১২ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর যুদ্ধে অসংখ্য আহত-নিহতদের মধ্য দিয়ে জকিগঞ্জ থানা সদরসহ আশপাশ এলাকা পাকহানাদার মুক্ত করা হয়। কিন্তু আজও মিলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

জকিগঞ্জকে শত্রু মুক্ত করতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত মতে একাত্তরের ২৭ মার্চ জকিগঞ্জ ডাক বাংলোয় এক গোপনীয় বৈঠকে থানার সকল ইপিআর ক্যাম্পের পাক সেনাদের খতমের সিদ্ধান্ত হয়। ২৮ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধা মেকাই মিয়া, চুনু মিয়া, আসাইদ আলী, ওয়াতির মিয়া, তজমিল আলী, মশুর আলী, হাবিলদার খুরশিদ, করনিক আবদুল ওয়াহাব, সিগনালম্যান আবদুল মোতালেবসহ কয়েকজন মিলে প্রথমে জকিগঞ্জ ও মানিকপুর ইপিআর ক্যাম্পে অপারেশন চালিয়ে পাক সেনাদের খতম করে জকিগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন।

এরপর সাবেক এমপি মরহুম দেওয়ান ফরিদ গাজী, এমএলএ আবদুল লতিফ, এমএলএ আব্দুর রহিম, সেক্টর কমান্ডার চিত্ত রঞ্জন দত্ত, মিত্র বাহিনীর দায়িত্ব প্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার ওয়াটকে, কর্নেল বাগচিসহ কয়েকজন ভারতের মাছিমপুর ক্যান্টনম্যান্টে বসে জকিগঞ্জ এলাকা শত্রু মুক্ত করতে পরিকল্পনা করেন। ঐ পরিকল্পনায় ছিল কিভাবে কুশিয়ারার ওপারে ভারতের করিমগঞ্জের মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ না করে জকিগঞ্জ দখল করা যায়। এরপর একাত্তরের ২০ নভেম্বর রাতে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী ৩টি দলে বিভক্ত হয়ে প্রথম দল লোহার মহলের দিকে ও দ্বিতীয় দল আমলসীদের দিকে অগ্রসর হয়। মূল দল জকিগঞ্জের কাস্টমঘাট বরাবর করিমগঞ্জ কাস্টমঘাটে অবস্থান নেয়।

প্রথম ও দ্বিতীয় দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে কুশিয়ারা নদী অতিক্রম করে জকিগঞ্জের দিকে অগ্রসর হয়। আক্রমণের খবর পেয়ে পাকবাহিনী দিকবিধিক ছুটাছুটি শুরু করে। মুক্তিবাহিনী তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলেছে ভেবে তারা আটগ্রাম-জকিগঞ্জ সড়ক দিয়ে পালাতে থাকে এরই মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় দল ভারত থেকে জকিগঞ্জে পৌঁছে যায়। মূল দল কুশিয়ারা নদীতে সেতু তৈরি করে জকিগঞ্জ সদরে প্রবেশ করে। তখন জকিগঞ্জ কাস্টমঘাটের নদীরচরে পাকসেনাদের বুলেটে শহিদ হন ভারতীয় মিত্রবাহিনীর মেজর চমন লাল ও তার দুই সহযোগী। এ সময় মুক্তিকামীরা কয়েকজন পাক সেনাকে আটক করেন। এভাবেই মুক্ত হয় সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জ।

কিন্তু বাংলাদেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল হিসেবে জকিগঞ্জ এখনও পায়নি স্বীকৃতি । কবে পাবে সেটির ও কোন নিশ্চয়তা নেই…!

সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি- আমাদের প্রানের দাবীটি মেনে নিয়ে জকিগঞ্জকে বাংলাদেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল ঘোষনা করা হোক।

লেখক – ম্যানেজার, জনতা ব্যাংক লিমিটেড। সদস্য, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, ঢাকা। এক্স-ফ্যাকাল্টি, গ্রীনহিল স্টেট কলেজ, সিলেট এবং সীমান্তিক কলেজ, সিলেট।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *