
জামাল আহমদ:: ‘সকালের খাবার শেষে ভাই-বোন মিলে বাড়ির পাশেই খেলাধুলা করছিলেন। এক পর্যায়ে নিহা (৫)-এর জুতা পাশে একটি পরিত্যক্ত পুকরে পড়ে যায়। নিহা জুতা তুলতে গিয়ে হঠাৎ পা ফসকে পড়ে গেলে সাথে সাথে বোনকে বাঁচাতে অগত্যা পানিতে লাফ দেয় সাফওয়ান (৭)। অতপর কারোরই ফেরা হয়নি। সাতার জানলেও বোনকে নিয়ে সাঁতরে উঠা হয়নি পাড়ে। পানিতে ডুবে দুজনেরই মৃত্যু ঘটে।’
সোমবার রাতে বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে যখন ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন চাচা ফয়সল আহমদ, তখন ঘরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা সালমা আক্তার। দূর প্রবাসে থাকা বাবার কান্নার শব্দও যেন হাওয়ায় ভেসে উড়ে আসছিল। সালমাকে শান্তনা দিতে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে দল বেঁধে নারীদের আসতে দেখা গেলো। দুই সন্তান হারানো মাকে শান্তনা দেয়ার ভাষা যেন কারোর কাছেই নেই।
সোমবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে জকিগঞ্জের সদর ইউনিয়নের আনোরাশী গ্রামে পানিতে ডুবে ভাই বোনের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন দুবাই প্রবাসী ফখরুল ইসলামের সন্তান। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে তাদের বাড়িতে দেখতে না পেয়ে আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেন পরিবারের সদস্যরা। এক পর্যায়ে বাড়ির অদূরে পরিত্যক্ত পুকুরে লাশ ভাসতে দেখেন তাদের ফুফু। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য লুৎফুর রহমান পানিতে ডুবে শিশু দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুপুরের দিকে বাড়ির পাশের একটি কূপে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সাফওয়ান আল ইহসান একাডেমীর ১ম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
