জকিগঞ্জের কাজলসার ইউনিয়নাধীন হাড়িকান্দি এলাকায় রাতের গভীরে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটায় সালেহ আহমদের তুলার গুদামে আগুন লাগে। অল্প সময়ে তুলার গুদাম ভূস্মিভূত হয়ে গেলে আশপাশের আরো কয়েকটি দোকানও এসময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজার থেকে ফেরার পথে পথচারীরা আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন। মসজিদে মাইকিংয়ের ফলে আগুন লাগার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে জকিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হন। ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায় তুলাসহ পুরো গুদামঘর। তবে আগুনের সূত্রপাতের বিষয়টি কেউ সুনির্দিষ্টভাবে বলতে না পারলেও মালিক পক্ষ ও তুলার মালিক এটি পরিকল্পিত অগ্নিকান্ড বলে অভিযোগ করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকের ছেলে নজরুল ইসলাম আগুন কেউ পরিকল্পিতভাবে লাগিয়েছেন দাবী করে বলেন, আমরা প্রায় ১২-১৩ লক্ষ টাকা দিয়ে এই মার্কেট করেছি। আগুনে পুড়ে পুরো মার্কেট এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত লেপ তোশক ব্যবসায়ী সালেহ আহমদ বলেন, আমার গুদাম ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিলনা। সে কারণে নিঃসন্দেহে বলতে পারি এখানেই কেউ হিংসাত্মকভাবে আগুন লাগিয়েছে। আমি প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার তুলা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য কফিলুজ্জামান কফিল জানিয়েছেন, আমরা মাইকে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে দ্রুত না আসলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আরেক ওয়ার্ড সদস্য নাজিম উদ্দিন বলেন, আমাকে স্থানীয় একজন ফোন করে আগুন লাগার ঘটনা জানালে তাৎক্ষণিক ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। ফায়ার সার্ভিসকর্মী গোলাম আজম জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। দু’টি গাড়িতে করে ৪ নলে পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।