কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ৭০শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার
কম্বাইন হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ও পাওয়ার রিপার ক্রয়ে আগ্রহীরা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করারও অনুরোধ জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা।

রেদ্বওয়ান মাহমুদ:: সিলেটের জকিগঞ্জে আধুনিক কৃষিযন্ত্র রাইস ট্রান্সপ্লান্টার সাড়া ফেলছে কৃষকদের মাঝে। অল্প সময়ে নিখুঁত কাজে পারদর্শী এই মেশিনটি ব্যবহার করে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব বলে দিন দিন বাড়ছে আগ্রহ।
গতবছর জকিগঞ্জে প্রথমবারের মত রাইস প্লান্টার ব্যবহার করেছিলেন বারহালের কৃষক আব্দুল কাদির। অন্যান্যবারের তুলনায় সে বছর তার উৎপাদন খরচ হয় অনেকটাই কম। ধান উৎপাদনেও বড় প্রভাবে পড়ে। এবার চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় বারের মত জকিগঞ্জে এই যন্ত্রটি ব্যবহার করে আমন ধান রোপন করেছেন আটগ্রামের হাজী ইসমাঈল আলী। তার মালিকানাধীন কয়েক শ’ একর জমিতে চাষাবাদের জন্য শ্রমিক সংকট দেখা দেয়ায় তিনি এই প্রযুক্তির দ্বারস্থ হন।
মঙ্গলবার ধান রোপণকালে পরিদর্শনে আসেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শেখ ফরিদ, কাজলসার ইউনিয়নের উপ সহকারী কর্মকর্তা শাহরিয়া তানভীর, আব্দুল বাছিত, রুমন কান্তি শর্মা, রুহুল আমিন প্রমূখ। এসময় শেখ ফরিদ জানান, ‘মেশিনটি জকিগঞ্জে নতুন হওয়ায় চালনাকারীরা এখনো দক্ষ নয়। এরপরও মাত্র ১ঘণ্টায় ১বিঘা জমিতে ধান রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। যেটি ম্যানুয়ালি করালে ৬ জন শ্রমিকের ৮ ঘণ্টা সময় ব্যয় হতো।’
জকিগঞ্জের সিংহভাগ পরিবার কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট হলেও এই সংখ্যা দিন দিন কমছে। ধান রোপণের মৌসুম এলেই নানা সমস্যায় পড়তে হয় কৃষকদের। শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক সময় যথাসময়ে জমিতে ধানের চারা রোপণ করাও সম্ভব হয়ে ওঠে না। এমন বাস্তবতায় কৃষি যান্ত্রিকীকণের আলো নতুন পথ দেখাচ্ছে কৃষকদের। তবে যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করার দাবী জানিয়েছেন কৃষকরা। উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের কৃষক রহিমুদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান- ‘আধুনিক এই যন্ত্রের সাহায্যে কম সময় বেশি কাজ করা যায়, খরচও অনেক কম হয় তা ঠিক। কিন্তু এত টাকা দিয়ে তো কেনার সামর্থ্য নেই আমাদের।’ এদিকে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সরকার বেশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। ৭০শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে আগামি আগস্ট থেকে কম্বাইন হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ও পাওয়ার রিপার সরবরাহ করা হবে।’ ক্রয়ে আগ্রহীরা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করারও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।