জকিগঞ্জ টিভি:: আমাদের জাতীয় জীবনের অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। বাঙালি জাতির মনের গভীরে স্থান এই মহামূল্যবান স্থাপনার। এখানে জাতির সূর্য সন্তানদের স্মরণ করা হয় বিশেষ একটি দিনে। ২১শে ফেব্রুয়ারি ‘শহীদ দিবস’ বা ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা’ দিবস। দিনটিকে কেন্দ্র করে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত এখন জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। শনিবার (২০ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাপক সাজসজ্জায় শহীদ মিনারে বিরাজ করছে এক ভাব-গাম্ভীর্যের পরিবেশ। কাজ করছে বাড়তি সৌন্দর্য্য।
বাঙালি জাতির পঞ্জিকার এই দিনটি বিশেষ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে উদযাপন করা হয়। শহীদ মিনার নির্মাণের পেছনেও আছে ইতিহাস৷ জানা যায়, বায়ান্ন’র ২১ ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত প্রহরের পর ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তৈরি করেন প্রথম শহীদ মিনার। শহীদ মিনারটির নকশা করেছিলেন সাঈদ হায়দার। কিন্তু নির্মাণের মাত্র তিন দিন পর মুসলিম লীগ সরকারের লেলিয়ে দেওয়া সেনাবাহিনীর বন্দুকের নল থেকে রক্ষা পায়নি সেটি।
বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর শহীদ মিনারটি দ্বিতীয় বার নির্মাণের কাজ শুরু হয় ১৯৫৭ সালে। এটির নকশা তৈরি করেন হামিদুর রহমান। পরে ৫৮ সালে সামরিক সরকার জেনারেল আইয়ুব খানের সময় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর জেনারেল আযম খানের সময় নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে। ওই বছর ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ভাষা শহীদ আবুল রকতের মা হাসিনা বেগম।
