
ছোট্র বয়স থেকেই লেখক ও সাংবাদিক এই দুই শ্রেণীর মানুষের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালবাসা ছিলো একটু বেশী। কখনো কোনো লেখক বা সাংবাদিক দেখলে আলাদা সম্মান করতাম, হৃদয়ের অন্তমূল থেকে যেন একটা ভালোবাসা সঞ্চারিত হতো। সাহস করে অনেকের কাছে যেতে পারতাম না, দূর থেকে দাঁড়িয়ে নীরবে-নিভৃতে তাঁদের কথা শুনতাম; একটা অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করতো। আমার মাধ্যমিক জীবনের একজন শিক্ষক ছিলেন সাংবাদিক, উনাকে যে কয়েকটি কারণে বিশেষভাবে ভালো লাগতো এর মধ্যে- বাস্তবতার নিরিখে কথা বলা, কোন বিষয়কে প্রাণবন্ত করে উপস্থাপনা ছিলো অন্যতম৷ অবশ্য, যা অন্যদের নিকট থেকে খুব একটা পরিলক্ষিত হয়নি। সব মিলিয়ে আমার মনে হতো সাংবাদিক হলেই তা সম্ভব বা সাংবাদিকরা এমনই হন। এর ফলপ্রসূ হিসেবেই সাংবাদিকতার প্রতি ছোটকাল থেকে জমিয়ে রাখা আগ্রহের মাত্রা দিন-দিন বাড়তে থাকে।
তখনকার সময়ে জকিগঞ্জ থেকে যে সকল পত্রিকা প্রকাশিত হতো, তা অনেক কষ্ট করে হলেও সংগ্রহ করতাম এবং ভীষণ আগ্রহ নিয়ে পড়তাম, চেষ্টা করতাম কিছু শেখার।
এমন বেশ পত্রিকা-ই রয়েছে যেগুলো জকিগঞ্জ বাজারে গিয়ে ২০ কপি ক্রয় করে নিয়ে আসতাম, আশ-পাশের অনেককে পড়তে দিতাম। জকিগঞ্জের আগেকার অনেক পত্রিকাগুলো এখনো সযত্নে আমার সংগ্রহে রয়েছে।
ফেসবুক-ইউটিউবে ঘাটাঘাটি থেকে মাথায় চিন্তার উদ্রেক হয়, অনলাইনভিত্তিক টিভি করার। প্রিয় জকিগঞ্জকে বিশ্ব দরবারে সচিত্র দেখানো এবং এর সুনাম দেশ-প্রবাসের সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার আগ্রহ দিন-দিন প্রখর হয় এবং এর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হরেক রকম চিন্তা মাথায় দোল খায়। এভাবেই কাটে অনেক দিন, প্রতিক্ষণ যেন লুকিয়ে রাখা এ স্বপ্নটি আমাকে তাড়া করে ।
প্রতিদিনের মতো অফিসে বসে আছি, অফিসের কাজ আপন মনে চালিয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ রেদ্বওয়ান, আইমান আর জুয়েল আমার অফিসে আসেন। তখনই স্বপ্নের গল্পটা শেয়ার করার উপযুক্ত সময় বলে মনে করি। আমি তাদের কাছে আমার চিন্তার কথা বিস্তর আলোচনা করি এবং জকিগঞ্জ টিভি নামে একটা অনলাইন টিভি করার আগ্রহ প্রকাশ করি। মুহুর্তেই তারা আমার এ কাজ বাস্তবায়নে আমার সাথে থাকার সম্মতি প্রকাশ করেন এবং মূলত থেকেই জকিগঞ্জ টিভির যাত্রা শুরু হয়।
সাংবাদিকতায় আমার আগ্রহকে সমৃদ্ধ করার পেছনে ত্রৈ মাসিক সন্ধানী’র সম্পাদক মোস্তফা হাসান গিলমান ভাইয়ার অবদান কখনও ভুলার মতো নয়।ক্রমান্বয়ে এগিয়ে চলা আমার অগ্রযাত্রায় জকিগঞ্জের অনেক জ্ঞানী গুণী মানুষের সাহস আমাকে হিম্মত যুগিয়েছে।
সময়ে-সময়ে আমাদের পরিবারে যুক্ত হয়েছেন জকিগঞ্জের বেশ ক’জন মেধাবী, কর্মঠ তরুণ। তাদের আন্তরিক পরিশ্রমে জকিগঞ্জ টিভি এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষত আমার বন্ধু, যাকে বড় ভাই হিসেবেই দেখি জামাল আহমদ যুক্ত হওয়ার পর থেকে নতুন উদ্যমে আমরা কাজ শুরু করি। নিউজ এডিটর ফাহিমসহ অনেকেই টিভিতে তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখে।
জকিগঞ্জ টিভি ফেসবুক লাইক পেইজ দিয়ে যাত্রা শুরু করে, সপ্তাহের মধ্যেই ইউটিউব চ্যানেল খুলা হয়। সময়ের প্রয়োজনে এক বছরের মধ্যে ওয়েবসাইট, মোবাইল এ্যাপস চালু করা হয়।
প্রথম বছর রামাদানে সারা মাস ব্যাপি শান্তির বাণী অনুষ্ঠান সাড়া ফেলে দর্শক মহলে। জকিগঞ্জের প্রতিটি দর্শনীয় স্থান নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনও পায় দর্শকপ্রিয়তা। কাজ সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে প্রতিনিধি নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য দক্ষ কর্মী গঠনের কাজ ও সম্পন্ন করেছি আমরা।
সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দিন থেকে দিন আমাদের অগ্রযাত্রা হচ্ছে বেগবান। জকিগঞ্জ টিভির অভ্যন্তরে কাজ করা প্রতিটি মানুষের ঘামঝরানোর ফসল আমাদের আজকের অবস্থান। আমরা হেঁটে যেতে চাই অনন্ত পথ। জকিগঞ্জকে বিশ্বায়নের যে স্বপ্ন বুকে নিয়ে আমাদের ছুটে চলা, তা বাস্তবে রুপায়িত করতে প্রয়োজন সকলের ভালোবাসা। আমরা ভালোবাসাকে পুঁজি করেই ছুটে যেতে চাই লক্ষ্যপানে।
আব্দুল মুকিত
ম্যানেজিং ডিরেক্টর, জকিগঞ্জ টিভি।