শীত ও গরম দুটোই আলাদা বৈশিষ্ট নিয়ে আমাদের কাছে হাজির হয়। আমাদেরকে শীত আগমনের খবরটি কেহ না জানালেও গরিবরা ধনীদের গায়ের দামী দামী কোট দেখেই বুঝতে পারে এখন শীতকাল। ধনীরা প্রতিবছর পুরানো জামা থাকা সত্তেও নতুন ডিজাইনের জামা কিনতে ব্যস্ত। কেহ নিজে কিনে নিকট আত্মীয়কে আন্তরিকতার টানে শীতের কাপড় উপহার দেন। বিদেশ থেকে যখন কেহ দেশে আসেন অন্য কিছু যাই আনেন না কেন শীতের জন্য কম্বল আনতে ভুলেননা। নিজের পরিবারের জন্য রেখে আত্মীয়-স্বজনকে কম্বল উপহার দিতে দেখা যায়। কোনো বিদেশী আজ পর্যন্ত এতিম অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য একটি কম্বল এনেছেন বলে শুনিনি, নিজের আপনজনদের নিয়েই ব্যস্থ থাকতে দেখা যায়।
শীতের সময় ধনী গরিব সকলের জন্য গরম জামা দরকার। যারা নিজে কিনতে পারেন তারা তো একটি কিনে, কিন্তু অপ্রয়োজনীয় আরেকটি কিনতে ব্যস্ত দেখা যায়। আর এমন কিছু মানুষ আছেন যারা বছরের বারোটি মাস কষ্টে কাটাতে হয়। দিনে দুই বেলা পেট ভরে ভাত খাওয়ার ভাগ্য অনেকের নেই, তারা বিদেশি কম্বল ব্যবহার করা দূরের কথা একবার হাত দিয়ে দেখার সুযোগ পায় কিনা সন্দেহ। আমরা যারা শীতের সময় একাধিক গরম জামা কাপড় কিনতেছি একবার কি ভেবে দেখেছি আমাদেরকে আল্লাহ তৌফিক দান করেছেন বলেই আমরা প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে কাপড় কিনতেছি।
তবে যারা একটি মাত্র জামা কেনার টাকা যোগাড় করতে পারেনা তাদের উপর আমাদের কি কোনো দায়িত্ব নেই?
আমরা যদি পাষানের মত ওদের কষ্ট দেখে না দেখার ভান করে নিজের আরাম আয়েশ নিয়ে ব্যস্ত থাকি তবে এর জবাব নিশ্চয়ই পরকালে দিতে হবে। আমরা আমাদের বিবেককে কাজে লাগিয়ে শীতের সময় যারা গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট ভোগ করে ওদেরে শীতবস্ত্র বিতরনের মধ্য দিয়ে পাশে দাড়াতে হবে। পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আছে যারা তাদের পালিত কুকুরটাকে ও শীতের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে শীতবস্ত্র পরাতে দেখা যায়। আর আমরা সৃষ্টির সেরা আশরাফুল মাখলুখাত, সৃষ্টির সেরা জীব হয়ে একে অন্যের কষ্ট নিবারনে যদি পাশে না দাড়াই তবে আমাদের জন্মটা নিরর্থক হয়ে যাবে। সমাজে অনেক ধনী লোক আছেন যারা সমাজ সেবা করে সম্মান অর্জন করেন পাশাপাশি অনেক সেবামূলক সংস্থা আছে যারা সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন অবিরত, এইসব সেবার পাশাপাশি এই শীতের মৌসুমেই এতিম অসহায় সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু প্রতিবন্ধীদের পাশে যেন শীতবস্ত্র নিয়ে হাজির হোন সেই প্রত্যাশা রইল। আল্লাহ অনেককে সম্পদ দিয়ে পরীক্ষা করতেছেন তা কোন কাজে ব্যয় হয়, এমন একটি ভাল কাজ আপনার পরকালের উছিলা হতে পারে। আমরা সবাই অন্তত একটি শীতবস্র নতুন বা পুরাতন হোক নিজ হাতে একজন অসহায়কে দিয়ে তার মুখে হাসি ফিরিয়ে দেই। আমরা মানবতার কল্যানে শীতবস্ত্র নিয়ে অসহায়ের পাশে দাড়িয়ে একটি ভাল কাজে অন্তত নিজেকে নিয়োজিত করি।
লেখক : প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, সুবাস – একটি বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যান সংস্থা, সিলেট