জকিগঞ্জ টিভি:: জকিগঞ্জে রহস্যজনকভাবে অগ্নিদগ্ধ হওয়া গৃহবধূ জুলফা ইয়াসমিন মৌসুমী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
আজ ১২ ডিসেম্বরে বৃহস্পতিবার আনুমানিক ভোর ৫টায় ঢাকাস্থ বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে ৮ডিসেম্বর রবিবার গভীর রাতে কাজলসার ইউনিয়নস্থ পশ্চিম গোটারগ্রামের মোকাম বাড়িতে শ্বশুরবাড়ির বাথরুমে রহস্যজনকভাবে অগ্নিদগ্ধ হন জুলফা।
আশঙ্কাজনক অবস্থা থাকায় জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে ভর্তি করা হয় তাকে। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মঙ্গলবার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাকে প্রেরণ করা হয়।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১২ অক্টোবর বারঠাকুরী ইউনিয়নের দেবোত্তর গ্রামের আব্দুল জলিল জলু মিয়া’র বড় মেয়ে জুলফা ইয়াসমিন মৌসুমী (২২) ও একই উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের পশ্চিম গোটারগ্রামের মোকাম বাড়ির মৃত গিয়াস উদ্দিন সোহাগ মিয়া’র ছেলে আব্দুল মুমিত মাহিন (২৭) পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন।
এদিকে বিয়ের পর ৩ বছরের অধিক সময় পার হলেও গৃহবধূর কোন সন্তান জন্ম না হওয়াসহ নানা বিষয়াদি নিয়ে পারিবারিকভাবে কলহ লেগে থাকতো বলে অভিযোগ করেছেন গৃহবধু মৌসুমীর মামা ফজল আহমদ। তিনি বলেন, ‘ঘটনার রাতেই তাঁর ভাগনীর সাথে স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা ঝগড়া করেছেন। মৌসুমীর বাবা এ ঘটনায় জকিগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া মৌসুমীর খালা সূফিয়া সুলতানা ও কাফিয়া জানান, ‘অসহায় বাবার কথা চিন্তা করে মৌসুমী অনেক কষ্ট করে এ সংসারে দিনাতিপাত করেছে। সে সময়ে সময়ে স্বামীর পরিবারের নিকট নির্যাতিত হলেও কখনো বলতে চায়নি। এমন কি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সে স্বামীর পরিবারের বিপক্ষে কোন কথা বলেনি। সে বারবার বলেছে এখন কোন কথা নিয়ে বাড়াবাড়ি করার দরকার নাই। কেননা স্বামীর বাড়ির লোকজন চিকিৎসা না করালে বাবা চিকিৎসার জন্য কোন খরচ করতে পারবেন না।’
তবে মৌসুমীর চাচাতো ভাশুড় মাওলানা আবুল হোসেন বলেন, ‘মাহিন ও মৌসুমীর সংসার খুবই সুন্দরভাবে চলছিল। রোববার দিবাগত রাতে মৌসুমী বাথরুমে গেলে আষ্মিকভাবে দগ্ধ হন।’ তিনি বলেন, ‘মৌসুমী দগ্ধ হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের জানিয়েছে, সে বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ আগুনের কুন্ডলি তার শরীরে লাগে। তখন সে আশপাশে কাউকে দেখতে পায়নি। এনিয়ে সে কাউকে দায়ী করেনি। আমাদের নিকট বিষয়টি রেকর্ড আছে।’
অপরদিকে নির্মম এ ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড না আত্মহত্যা না ভিন্ন কিছু এ নিয়ে এলাকায় চলছে মাতামাতি।
এ বিষয়ে ওসি মীর মোঃ আব্দুন নাসের সাংবাদিকদের জানান ‘খবর পেয়ে থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর পাল সহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।তদন্ত সাপেক্ষে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’