
বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। নিজের ঘরবাড়ি কাঁদামাটি ও বন্যার পানিতে বিপর্যস্ত। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সারা বছরে মেহনতে ফলানো জমির ফসল, ডুবে যাচ্ছে মৎস্য খামার। প্রতিবছর বর্ষাকালে এভাবেই দুর্ভোগে পড়তে হয় সিলেটের সীমান্তঘেষা জনপদ জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দাদের। বন্যার পানিতে বিপর্যস্ত হয় জনজীবন। গত ১ জুন, রবিবার দিবাগত রাত থেকে জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রারাই গ্রামে কুশিয়ারা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। ভোররাতে একই ইউনিয়নের মানিকপুর (বাখরশাল) ও সকাল আটটার দিকে লোহারমহল গ্রামের বেড়িবাঁধ ভেঙে সেনাপতিরচক, ইছাপুর, পিল্লাকান্দি সহ বেশ কিছু এলাকার মানুষ বন্যা আক্রান্ত হন। বন্যায় প্লাবিত হয় পৌর এলাকার জকিগঞ্জ বাজারও। বন্যা আক্রান্ত হওয়ার কারণে বাজারের ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বেড়িবাঁধের নিচে পানি থাকলেও বাঁধের প্রশস্ততা না থাকায় পানির চাপে বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় মানুষদের বন্যার সময় অন্তহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জকিগঞ্জে এটা নতুন কিছু নয় বরং প্রতি বছরকার এক চরম বাস্তবতা। প্রতি বর্ষায় বন্যার হানা, বাঁধ ভাঙা, তলিয়ে যাওয়া জনপদ এই চক্র যেন এখন জকিগঞ্জের মানুষের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ প্রতিবারই আশ্বাস আসে “এবার হবে টেকসই বাঁধ নির্মাণ”, “নেয়া হবে কার্যকর পদক্ষেপ” । কিন্তু পানি নেমে গেলে সেই আশ্বাসও যেন কোথায় হারিয়ে যায়। নেমে যায় কর্তৃপক্ষের তৎপরতা, থেমে যায় কণ্ঠস্বর! ফলস্বরূপ ফের বর্ষা মৌসুমে বন্যায় ভাসে জকিগঞ্জের মানুষ।
জকিগঞ্জের মানুষ এবার ত্রাণ নয়, চায় বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার, জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের কাছে আমাদের জোরালো দাবি— জকিগঞ্জের বন্যা সমস্যার সমাধানে সবাই সম্মিলিত জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। কেবল প্রতিশ্রুতি নয় এবার আমরা বাস্তবায়ন চাই। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর কালক্ষেপণ না করে জকিগঞ্জে টেকসই বাঁধ নির্মাণ সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ আমাদের জোর দাবি।