
কখনো সাংবাদিক, কখনো রাজনীতিবীদ, কখনো মানবাধিকার কর্মী, আবার কখনো লেখক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সংগঠক ও সমাজকর্মী পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাওয়া জকিগঞ্জের সেই এটিএম ফয়ছলকে চাঁদাবাজী মামলায় গ্রেফতার করেছে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১লা মার্চ) বিকেলে সিলেট নগরী থেকে জকিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। জকিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল নিরলস অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আমরা তাকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছি।
জানা যায়, জকিগঞ্জ বাজারের কুশিয়ারা রোডে অবস্থিত শরিফ ট্রেডার্স-এর সত্বাধিকারী আবুল হারিছ-এর তালতো ভাই মাওলানা মুহিউদ্দিন মুহসিন আত্মহত্যার ঘটনায় বড় অংকের চাঁদা দাবী করে উপজেলার দরগাবাহারপুর গ্রামের আব্দুল করীম (মেনাই মিয়া)’র ছেলে স্বঘোষিত সাংবাদিক এটিএম ফয়ছল। এ ঘটনায় ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে এটিএম ফয়ছল আহমদকে আসামী করে জকিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন জকিগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা আবুল হারিছ। চাঁদাবাজির অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে মামলা হিসাবে রেকর্ড করে। জকিগঞ্জ থানার মামলা নং ০২, তারিখ- ১০/১১/২০১৮ খ্রিস্টাব্দ। সেই মামলায় সে দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকে পরবর্তীতে আদালত থেকে জামিনে ছিল এটিএম ফয়ছল। দীর্ঘ দুই বছর পর সিলেটের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে। গ্রেফতারী পরোয়ানা মাথায় নিয়ে সে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জকিগঞ্জ থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ-এর সাথে দেখা করে ফেসবুকে ছবি পোস্ট দেয়। এনিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে।
এদিকে এদিকে এটিএম ফয়ছলের গ্রেফতারের খবর পেয়ে একাধিক ভূক্তভোগী তাদেরকে হয়রানী করার বিষয়টি প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। তারা প্রতারক এটিএম ফয়ছলকে গ্রেফতার করায় জকিগঞ্জ থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।
জানা যায়, বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে দাঁপিয়ে বেড়ানো এই এটিএম ফয়ছল স্বঘোষিতভাবে নিজেকে জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জকিগঞ্জ উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি পরিচয় দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান। জকিগঞ্জের কর্মরত সাংবাদিকরাও এটিএম ফয়ছলের নানা অপকর্মে বিব্রত।
চাঁদাবাজী মামলার বাদী আবুল হারিছ জানিয়েছেন, মাওলানা মুহি উদ্দিন মহসিনের লাশ দাফনের আগে প্রতারক এটিএম ফয়ছল তার দাবীকৃত চাঁদা আদায় করতে আমাকে চাপ সৃষ্টি করেছিলো। একটি অপমৃত্যুর ঘটনায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা আদায়ের চেষ্ঠাকারী এটিএম ফয়ছলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন তিনি।