প্রসঙ্গঃ কোভিড ১৯, এবারের ঈদে আমরা শপিং করা থেকে বিরত থাকি

Spread the love

এম. এ ওয়াহিদ চৌধুরীঃ ঈদ মানে খুশি আর আনন্দ, তাই বলে কি নতুন কাপড় ছাড়া খুশি আনন্দ করা যাবে না, আর এটাই কি জীবনের শেষ ঈদ, মনে রাখুন বেঁচে থাকলে জীবনে অনেক ঈদ পাবো, আর বেঁচে না থাকলে এই পরিস্থিতিতে মরে গেলে জীবনের সবি হবে শেষ। এমনকি অনাদরে অবহেলায় কোনমতে হবে শেষ বিদায়, আপনজন পিতা মাতা স্থী সন্তান সহ দেখতে আসবে না কোন আত্মীয় স্বজন। শুধু মাত্র ঘোষণাটা হবে আপনি আর দুনিয়াতে নাই। আসুন আমরা সবাই মহান মাওলার কাছে ভিক্ষা চাহি এরকম মউত যেনো না হয়।

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী সীমিত পরিসরে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত দোকান পাট ও শপিংমল খোলা রাখার নির্দেশনা এসেছে আর লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ১৬ মে পর্যন্ত। আমরা যদি এবারের ঈদ শপিংগে না যাই কেহ কি জোর করে নিয়ে যাবে।

একটি বার ভাবুন আপনার নিজের জীবনের কথা, আপনার পিতা মাতার কথা, আপনার ছেলে সন্তান এবং প্রিয়তমা স্ত্রীর কথা।

মা বাবা কাঁদবে, ছেলে সন্তান এতিম হবে আর স্ত্রী হবে আসহায়। তাই ভালোবাসুন আপনার স্ত্রী সন্তান পরিবার পরিজন পাড়া প্রতিবেশি সহ সকলকে ভালোবেসে এবারের ঈদ শপিং কে পরিহার করুন। ঘরের পুরাতন টুপি, পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি, শাড়ী দিয়ে এবারের ঈদটা কাটিয়ে দিন। বেঁচে থাকলে সব ক্রাইসিস কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
আর বর্তমান পরিস্থিতিতে মরণঘাতী করোনা যোদ্ধ থেকে বেঁচে থাকাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সফলতা।

দিনদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তেই আছে লক্ষ লক্ষ মানুষ, আর সুস্থতার সংখ্যা খুবই কম। বর্তমানে বহির্বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা এ পর্যন্ত (২,৪৭,৫৩১) দুই লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার পাঁচশত একত্রিশ জন মানুষ।
আজ তারা নিশ্চুপ, নিস্তব্ধ, নিথর, শীতল। তারা আজ হারিয়ে গেছেন দূরের অজানায় যেখান থেকে আর ফিরে আসা যায়নি কোনদিন।
তাদের পরিবার আজ অভিভাবকহীন।সন্তানরা এতিম। আপনার সন্তানের দিকে একটাবার তাকান।

আপনার মা বাবা স্ত্রীর দিকে তাকান। প্রিয় মানুষটার দিকে তাকান। যেহেতু একবার চলে গেলে আর ফিরে আসার কোন সুযোগ নেই। সুতরাং সিদ্ধান্ত নিন জীবন ও আপনার। করোনা ভাইরাস এপর্যন্ত যেভাবে বিস্তার লাভ করছে, আমরা আর সচেতন না হলে বন্যার পানির মতো জীবনকে ভাসিয়ে দিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেভাবে তাদের জীবন দিয়ে জনগণের কল্যাণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আর আমরা যদি না মানি তাহলে কেমন? দয়া করে ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং নিরাপদে থাকুন।

লেখকঃ সাংবাদিক ও সহ সভাপতি অনলাইন জার্নালিস্ট সোস্যাল সোসাইটি সিলেট।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *