সারা বিশ্বে যে রোগটি বর্তমানে প্রায় সকলের ঘুম কেড়ে নিয়েছে তা হলো করোনা। ঘুম কেড়ে নেয়ার কথা এজন্যই বলছি: আমরা সকলেই সুন্দর এ বসুধায় বেচে থাকতে চাই। কেউ কেউ সুন্দর ভাবে বেচে থাকতে চাই, কেউ কেউ দাপটের সাথে বেচে থাকতে চাই, কেউবা আবার বিশ্বমণ্ডল বা ভূমণ্ডলের আধিপত্য একচ্ছত্র হিসেবে নিয়ে দূর্বল প্রকৃতির লোকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে যুগের পর যুগ বেচে থাকতে চাই।
বলে রাখা ভাল, কাউকে জ্ঞান দেয়ার উদ্দ্যেশ্যে বা ঘায়েল করার জন্য আমার এ লেখাটি নয়। নিছক মনের তাগিদে লেখার ইচ্ছে জাগলো, তাই লেখা। আশা করি কেউ ভুল বুঝবেন না।
একটু চিন্তা করলে আমরা দেখতে পাই, বর্তমান পৃথিবীর মানুষ কত ব্যস্ত! বিত্ত কিংবা ক্ষমতার আশায় আমাদের মাঝে লুকিয়ে থাকা মনুষ্যসুলভ ভালবাসাময় চরিত্রগুলো লোপ পেয়ে একেকজন আমরা যন্ত্রদানবে পরিণত হচ্ছি। সংসার, বাচ্চা কাচ্চা ভালবাসার মানুষ গোল্লায় যাক আমাকে বিত্তশালী বা প্রভাবশালী হতে পারলেই হলো! পৃথিবী নামক গোলক খণ্ডটা আমার হাতের মুঠোয় আনাটাই যেন একেকজনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাইতো বিশ্বদরবারে আজ এত হানাহানি, দলাদলি এবং মানুষে মানুষে হিংসা-বিদ্বেষের দেয়াল রচিত হয়েছে। কিন্তু কেন?
আমরা ইতিহাস ঘাটি না। সুন্দর এ বসুধায় কেউ চিরজীবন বেচে থাকতে পারে নি। নমরুদ, শাদ্দাদ, ফেরাউন, কারুন, হিটলার কেউ না। কেউই তাঁদের ক্ষমতার সিলসিলাকে দুনিয়ায় জীবিত রেখে যেতে পারে নি। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিয়ে আমরা একচ্ছত্র ক্ষমতালিপ্সুরা বারবারই ভূল করে থাকি। আফসোস!
বর্তমান সুপার পাওয়ার যুগের বড় বড় রাষ্ট্রনায়কগণ নমরুদ, শাদ্দাদ, ফেরাউন, হিটলার হতে কোন অংশে কম নন। হয়তোবা আলো বাড়িয়ে! আকাশ, বাতাস, জল, স্থল তাঁদের করতলে এলেও এখন ইচ্ছে জেগেছে কিভাবে জগতে চিরঞ্জিব থাকা যায়? তাইতো নিজের ক্ষমতাকে চিরঞ্জিব করার জন্য বিজ্ঞানের সুবাদে নতুন নতুন আবিষ্কারে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। পরিণতিতে যে মনুষ্যকূলের জন্য এ সৃষ্টি বসুধা তার সৌন্দর্যের জন্য বা তার উপরে বসবাসকারী মনুষ্য জাতের কল্যাণের জন্য কোন টাকা অর্থ খরচ করতে ওরা চাচ্ছে না। বরং এদেরকে শেয়াল কুকুরের মত মেরে পৃথিবী থেকে সরিয়ে তারা তাদের বুভুক্ষ উদর পুরে চিরদিন শুধু খেতেই চাচ্ছে!
চিন্তা করে দেখুন, বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে যেখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল বয়ে যেতো, সেকেণ্ডে সেকেণ্ডে যেখানে গাড়ির হর্ণ বাজতো; সামান্য এক করোনার কারণে আজ সেসকল শহর, বন্দর আজ প্রাণহীন। যেন একেকটা মৃতপুরী একটাটা তিলোত্তমা শহর! কেউ অস্ত্র দ্বারা বা ব্যারিকেড দ্বারা কাউকে কোথাও আটকিয়ে রাখে নি। অথচ: প্রাণের ভয়ে আজ আমরা ঘর হতে বের হতে চাচ্ছি না, ব্যবসা বাণিজ্য ছেড়ে দিচ্ছি, ডেটিং-ফেটিং ছেড়ে দিচ্ছি। একসঙ্গে যাতায়াত কেন্সেল করছি। জামায়াতে নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকছি, ভাইরাস যাতে আক্রমণ করতে না পারে সে ভয়ে মাস্ক ব্যবহার করছি, হেণ্ডশেক করা থেকে বিরত থাকছি। কারণ সুন্দর এ পৃথিবীতে আমরা বেচে থাকতে চাই। মরতে চাই না।
এই যে আমাদের মাথার উপরে বসে থাকা সুপার পাওয়ার ক্ষমতার অধিকারিরা রয়েছেন, যারা আমাদেরকে রাসায়নিকের তেজষ্ক্রিয়তায় ক্ষমতার তেলেসমাতি দেখান, কই তাঁরা আজ সামান্য করোনাকে প্রতিহত করতে পারছেন না কেন? সর্দি-কাশির মত ভাইরাস রোগের কাছে হিমসিম খেয়ে ঘরে বন্দি হয়ে আছেন কেন? বিরাট ক্ষমতাধররা আজ পথের ভিখিরির মত নিজের প্রাণের মায়ায় গলধ:ঘর্ম হচ্ছেন কেন? তাহলে বুঝা গেলো এসকল সুপার পাওয়ার ক্ষমতার অধিকারিরা এ ধরার আসল শাসক নন। আসল শাসক আরেকজন রয়ে গেছেন। জানিনা বিষয়টি আমাদেরকে ধাক্কা দেয় কি না?
আমরা কি কেউ একবার ভেবে দেখেছি এই যে করোনা টাইপ ভাইরাসটটা এসে আমাদের হানা দিলো, মুহুর্তে আমাদের মূল্যবান প্রাণ নিয়ে যাচ্ছে, আসলে এটা দিলো কে? এমনি এমনিই কি এটা এসে আমাদেরকে ভয় দেখিয়ে জড়োসড়ো করে ফেললো? উত্তর আমরা সবাই জানি। অনেকে মুখ ফোটে বলি না। অনেকে বলছি। এটা এসেছে সুপার পাওয়ারেরও বিলিয়ন বিলিয়ন গুণ বেশি সুপার পাওয়ার মহান আল্লাহ পাকের কাছ থেকে। রাজার রাজা বিশ্ব অধিপতি; বিচারকের বিচারক আহকামুল হা’কিমিনের কাছ থেকে।
তাই সংক্ষেপেই বলবো, দাম্ভিকতা পরিহার করে প্রকৃত মানুষ হই। করোনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বের সকল জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষকে বুকে টেনে নেই। নতুবা আজ করোনা এসছে, কাল হয়তো মরোণা আসবে। আর সেই মরোণার হাত থেকে বিশ্ব অধিপতি মহা পরাক্রমশালী আল্লাহপাক ব্যতিত আর কেউ আমাদের রক্ষা করতে পারবেন না।
লেখক – এমএ ফাত্তাহ, কবি ও কলামিস্ট