অপরাজিত ড. আহমদ আল কবির

Spread the love

‘বাতিওয়ালা,স্মৃতির শহরের সেই জাদুকরি লোকটা।যখন সন্ধ্যা আগতপ্রায়, চরাচর ছেয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে, লোকটা তখন আলো হাতে চলেছে এক স্তম্ভ থেকে আরেক স্তম্ভে,জ্বেলে দিচ্ছে বাতি।

মানুষ আপনার কথা বলে । মানুষ আপনাকে ভালোবাসে । তরুণরা আপনার মিছিল দেয়। তরুণরা আপনাকে ভালোবাসে। আপনি-ই তো তরুণদের স্বপ্নের কারিগর।আপনাকে শুনেছি ( বাবার কাছ থেকে আপনার গল্প শুনেছি ) , বুঝেছি,পড়েছি। সত্যিই আপনি একজন অপরাজিত। আজ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের নোবেল পুরস্কার ভাষণের কথা খুব মনে পড়ে । মার্কেস বলেছিলেন, ‘মানুষের পরাজয় নেই, তা এ জন্য নয় যে তার ভাষা আছে, তা এ জন্য যে তার আত্মা আছে।আপনারও পরাজয় নেই, তা শুধু এ জন্য নয় যে, আপনার ভাষা আছে, তা এ জন্য যে আপনার আত্মা আছে। এক মহান আত্মা আছে। অপরাজেয় আত্মা ।

অপরাজিত কবির স্যারের গল্প অনেক শুনেছি। স্যার আপনিই তো তরুণদের মধ্যমণি। তৈরী করে দিয়েছেন স্বপ্ন, খুঁজে এনেছেন অনেক স্বপ্নবাজ তরুণকে। প্রাসঙ্গিক সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে একটু হাজির করি। তাঁর ‘ অন্ধকার মানুষ ‘ গানটিতে খুঁজে পেয়েছি এক অন্ধকার মানুষের গল্প, যে একবুক কালো ব্যথায় গড়া । যে কিনা প্রতারিত আর অনন্ত একা, নিঃসঙ্গ এক বিবর্ণ ফানুস। সেই মানুষের স্বপ্ন কেউ বোঝে না। সেই মানুষটি অন্ধকারে থেকেও অন্তহীন স্বপ্ন খোঁজে। এই বুকভরা বেদনাযুক্ত মানুষটির গল্প আবার শুনতে পাই ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’ গানটিতে, যেখানে শুনতে পাই যে বুকভরা এক কষ্ট নিয়ে এক মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যাঁর সুরের বুকে কান্না লুকিয়ে থাকে, যাঁর চোখের কোণে নোনা ছবি আঁকে। তাঁর সে হাহাকার ‘বোঝে না কেউ তো চিনল না, বোঝে না আমার কী ব্যথা চেনার মতো কেউ চিনল না এই আমাকে’। স্যার আপনিই তো তরুণদের স্বপ্নের কারিগর। আপনিই তো আমাদের বুঝবেন। অন্ধকারে আলো দেখাবেন।

অর্থনীতিবিদ ড.কবির স্যার অর্থনীতি নিয়ে ভাবেন। বাংলাদেশর অর্থনৈতিক উন্নয়নে স্যারের স্বপ্ন সীমাহীন। স্যার স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে। একবার ‘Daily Observer’ পত্রিকা জানতে চেয়েছিল স্যার , We dream of becoming a middle income country by 2021.Where does the banking sector stand in this scenario? স্যার জবাবে বলেছিলেন, ‘Banking sector is a very helpful in development. Banking sector will have to come forward in developing human resources. Bangladesh Bank and other banks will have to work together in this respect. Banks can works for skill development. Banks are ready to participate in metro rail and LNG gas.’

একজন সফল অথর্নীতিবিদ হিসেবে তিনি বেশ সুনাম অজর্ন করেছেন। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্টায়ত্ত রূপালী ব্যংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করে বদলে দিয়েছিলেন ব্যংকের চেহারা। নিয়মিত গবেষণা করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নিয়ে। তিনি বলেন, বংলাদেশ দারুণ সম্ভাবনার একটি দেশ। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিককালের আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রা প্রচলিত অর্থনৈতিক তত্ত্বের নিরিখে ব্যাখ্যা করা দুরূহ, কেননা এর জন্য বিভিন্ন সূচকের যুগপৎ উত্তরণ ঘটেনি। সীমিত সম্পদের একটি দেশকে সীমাহীন প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করে উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌছানো একটি কঠিন চ্যালেণ্জ । সাধারণভাবে আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকগুলো প্রতিবেশী দেশসমূহের তুলনায় বেগমান ও বলিষ্ঠ । কৃষি, শিক্ষা ( বিশেষ করে নারীশিক্ষা ),মা ও শিশুস্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি , সামাজিক নিরাপত্তা বলয় ইত্যাদির পাশাপাশি শিল্প ও কৃষি উৎপাদন সূচকেও বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে যখন বংলাদেশ রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হল সেদিন আমাদের আনন্দের সীমা ছিল না । এখন সেই আয় ৩০ বিলিয়ন ও ছাড়িয়ে গেছে । আগে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়া একটি স্বপ্ন ছিল-এখন তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে বলে সবাই উল্লসিত । প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে অনেক গুণ। এ অগ্রগতি প্রমাণ করে বাংলাদেশ দারুণ সম্ভাবনার একটি দেশ। ড. কবির স্যার খুবই আশাবাদী এ দেশকে নিয়ে।

আমার এই লেখা অপূর্নাঙ্গ, খন্ডিত এবং অসমাপ্তও বটে। কিন্তু সে আমার অক্ষমতা । এমন একজন ব্যক্তিত্বকে পুরোপুরি বলা যায় এ ক্ষুদ্র লেখায়। আমার জানা নেই, তবুও। কিন্তু এসব সীমাবদ্ধতা সত্তেও আমার মনে হয় ,এমন একজন স্বাপ্নিক অবিভাবককে ( জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের আগামী একমাত্র অবিভাবক ) আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে হবে। না, ঔচিত্য থেকে নয়, কর্তব্য কারনেও নয়, দায়িত্ববোধ থেকেও নয়- শুধু ভালোবাসার তাড়ানায়, মমতার কারনে, আর হৃদয়ের তাগিদে। এই লেখা ওই তিনটিরই সমষ্টি আর কিছু নয়। জয়তু ড.আহমদ আল কবির স্যার।।

বদরুল আলম

লেখক: গবেষক ও প্রভাষক, তাজপুর ডিগ্রি কলেজ, সিলেট।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *