আলো জ্বেলে পথ তৈরী করেন, স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান কিংবা স্বপ্নের ক্ষেত্র তৈরী করেন এমন মহান মানুষকে অমর করে রাখে তাঁর সুবিশাল কর্মযজ্ঞ। কালের স্রোতে তাঁদের নাম-ডাক একটুও কমে না। আলো জ্বেলে পথ তৈরী করা এমনই এক মনীষী আব্দুল মালিক আরিফ। জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সর্বোপরি একজন গুণী মানুষ। যে আলো জ্বেলেছিলেন তিনি, আজ তা পথ দেখাচ্ছে জকিগঞ্জের সাংবাদিকতা অঙ্গনে। জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাথে যার নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে, দুঃখজনক হলেও সত্য যে নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি আজ অনেকটাই অচেনা। এর দায় আমাদের, আমাদের এবং আমাদের। ৯ডিসেম্বর নীরবেই চলে গেলো তাঁর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। অনেকটা বিবেকের তাড়নায় বেশ ঘাঁটাঘাঁটি করে তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচয় লিপিবদ্ধ করার প্রয়াস গ্রহণ করলাম। একজন গুণী মানুষের সুবিস্তৃত পরিচয় শব্দের বাধ্য-বাধকতায় আটকে রাখা সম্ভব নয়। তথাপি তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরার কিঞ্চিৎ প্রচেষ্টা-

জন্ম ও বংশ পরিচয়ঃ ১৯৫০ সালের ৭ই অক্টোবর জকিগঞ্জ উপজেলার কেছরী (আরিফবাগ) গ্রামে মুহাম্মদ আব্দুল মালিক আরিফ জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মাওলানা আরিফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী পরিবারের গৌরব ছিলেন। তিনি ছিলেন সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারের সদস্য।
শিক্ষা জীবনঃ তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হয় জকিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তারপর একে একে জকিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ইনামতি ইসলামীয়া মাদ্রাসা গঙ্গাজল, হাছানীয়া আলিয়া মাদ্রারা গাছবাড়ী, জামিউল উলূম আলিয়া মাদ্রাসা এবং বৃহত্তর কুমিল্লা’র চাঁদপুর জেলার বিখ্যাত মোমিনবাড়ী জামেয়া কোরআনীয়া ইব্রাহিমীয়া মাদ্রাসায় শিক্ষা লাভ করেন।
শিক্ষকতাঃ মুহাম্মদ আব্দুল মালিক আরিফ জকিগঞ্জ জামেয়া ইসলামীয়া ছায়িদীয়া মাদ্রাসার সাবেক নায়েবে মুহতামীম ছিলেন। পাশাপাশি জকিগঞ্জ দারুল উলূম মাদ্রাসার সাবেক সাধারণ সম্পাদক পদেও দায়িত্বপালন করেছেন।
সাহিত্য জীবনঃ মুহাম্মদ আব্দুল মালিক আরিফ ছিলেন একজন সাহিত্যসাধক ব্যক্তি। দেশ বিদেশের বিভিন্ন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্র পত্রিকায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যার উপর তাঁর গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হতো। তিনি সাপ্তাহিক “এশিয়া” এর নিয়মিত লেখক ছিলেন। তিনি ছিলেন জকিগঞ্জ মুসলিম সাহিত্য পরিষদ এবং শিতালং শাহ একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। জকিগঞ্জ থেকে প্রকাশিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা ‘উদয়াচল’ এর সম্পাদক এবং ‘ইসলামী সাহিত্য নিকেতন’ এর পরিচালকও ছিলেন তিনি।
পারিবারিক জীবনঃ পারিবারিকভাবে তিনি ৮সন্তানের জনক। তাঁর ৬ জন ছেলে ২ জন মেয়ে। তাঁরা হলেন- আনোয়ার আহমদ আরিফ, আশরাফ আহমদ আরিফ, আনোয়ারা আরিফ, আহবাব আহমদ আরিফ, আবিদা আরিফ, আলবাব আহমদ আরিফ, আখলাক আহমদ আরিফ এবং আবরার আহমদ আরিফ।
প্রতিষ্ঠাতাঃ মুহাম্মদ আব্দুল মালিক আরিফ ১৯৯৫ সালে জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব গঠনের উদ্যোগ নেন। তাঁরই উদ্যোগে জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা হয়। এছাড়া তিনি জকিগঞ্জ ইসলামী গবেষণা পরিষদ, জকিগঞ্জ জেলা বাস্তবায়ন পরিষদ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। হযরত ইছে জালাল (রহঃ) স্মৃতি সংসদ এবং হযরত মুহাম্মদ আমজদ বড় মিয়া সাহেব বদখশানী (রহঃ) স্মৃতি সংসদ এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ছিলেন। ইসলাম বিরোধী কার্য্যকলাপ প্রতিরোধ আন্দোলন গঠনসহ তিনি বহু ধর্মীয় ও সমাজকল্যান মূলক সংগঠন প্রতিষ্ঠাতা করেন।
‘ইসলামী সাহিত্য নিকেতন’ লাইব্রেরীঃ তাঁর পারিবারিক লাইব্রেরী ‘ইসলামী সাহিত্য নিকেতন’ এ মানুষ ক্রয়ের দলিল ও হস্তলিখিত কোরআন শরীফ, হাদিস শরীফ, আরবী, ফার্সী, উর্দূ ও সিলেটী নাগরীতে লিখিত কিতাবাদীর পাণ্ডুলিপিসহ প্রাচীন যুগের অনেক ঐতিহাসিক দলিল-পত্র পাওয়া যায়। প্রকাশিত গ্রন্থঃ তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মাঝে রয়েছে “ইসলামের দৃষ্টিতে ভোটের মর্যাদা”। যেটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।
মৃত্যুঃ ২০০৬ সালের ৯ ডিসেম্বর সিলেট নগরীর একটি ক্লিনিকে বার্ধক্যজনিত কারণে মুহাম্মদ আব্দুল মালিক আরিফ ইন্তেকাল করেন।
লিখেছেন – আব্দুল মুকিত ম্যানেজিং ডিরেক্টর, জকিগঞ্জ টিভি।